‘অবরুদ্ধ’ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় ঘেরাও করতে এসে পুলিশি বাধার মুখে ফিরে গেছে ‘দিনমজুর শ্রমজীবী জনতা লীগ’ নামের একটি সংগঠন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বনানী মাঠ থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরের কাছে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। পরে সেখানে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে চলে যায়। এ সময় তারা অবরোধ ও হরতালের বিপক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
সংগঠনটির সভাপতি মো. তোফায়েল বলেন, ‘আমাদের কাজ নেই। ঘরে ভাত নেই। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারি না। আমরা বাঁচতে চাই। আমরা খালেদা-হাসিনা বুঝি না। হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার চাই।’
তবে মিছিলে আসা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় শ্রমিক লীগের নেতারা বনানী বাজারে কাজে আসা শ্রমিকদের প্রত্যেককে ৪০০ টাকা করে দিয়ে মিছিলে এনেছেন। তারা কোনো দল করে না। কোনো দলের বিষয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। তারা শুধু টাকা আর নেতাদের ভয়ে এসেছেন। অনেকে বলেছেন, তাদের বলা হয়েছে, মিছিলে না গেলে বাজারে আর কাজ করতে দেবে না।
কর্মসূচিতে আসা পুরুষদের পরনে ছিল লুঙ্গি, শার্ট, টি-শার্ট, গেঞ্জি। কারও পায়ে স্যান্ডেল, কারও পা খালি। নারীদের পরনে ছিল সাদামাটা শাড়ি, থ্রিপিস। কারও কারও কাঁধে ছিল কোদাল। তারা নিজেদের রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন।
এদিকে অন্যদিনের মতো ‘অবরুদ্ধ’ খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনের রাস্তা যথারীতি আটকে রেখেছে পুলিশ। রাস্তায় রাখা আছে পুলিশের ভ্যান ও জলকামান। কার্যালয়ের ফটকে রয়েছে পুলিশি পাহারা। দশম সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারি বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালনের ঠিক দুদিন আগে ৩ জানুয়ারি রাতে নিজের এই রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশ বেষ্টনীতে ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।
গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসে জনসভা ও কালো পতাকা মিছিলে অংশ নিতে পুলিশের বাধার মুখে বের হতে পারেননি। পরে সেখান থেকেই পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেন বিএনপির প্রধান।
জেআই





