দেশের কারাগারগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলায় ইতালি ও জাপানি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় এ সতর্কতা জারি করা হয়। এছাড়া জামায়াতের শীর্ষ নেতা আলী আহসান মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যু পরোয়ানা জারির কারণে কারাগারে বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে এমন আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কারা অধিদফতর বিশেষ সতর্কতা সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব কারাগারে পাঠায়। চিঠি পাওয়ার পরই যেসব কারাগারে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা বন্দি রয়েছে সেগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চিঠিতে কারাগারের দায়িত্বে থাকা সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারাগারে বন্দি জঙ্গিরা যাতে কারা অভ্যন্তরে বসে কোনো ধরনের নাশকতামূলক
তৎপরতা চালাতে না পারে বা কোনো পরিকল্পনার ছক কষতে না পারে সেজন্য তাদের ওপর এ নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর দেশের প্রতিটি কারাগারের বাইরে পুলিশ ও র্যাবের টহল বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কারাগারগুলোতে বন্দিদের নিরাপত্তা রক্ষায় জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষীরা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বজনদের দেখার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজন দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না বন্দিদের সঙ্গে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারা অধিদফতর হয়ে কারাগারে সতর্কতা জারিসংক্রান্ত একটি চিঠি পৌঁছেছে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে যাতে কোনো প্রকার চক্রান্ত না হতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন দায়িত্বরতরা। কারাগারের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিক সিজারি তাভেল্লা ও ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে দেশে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিক ও স্পর্শকাতর স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধানে তৎপর হয়ে ওঠে সরকার।
এমএইচ





