ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ঘর-বাড়ি থেকে পুরোপুরি পানি নেমে না যাওয়ায় কমেনি বানভাসিদের দুর্ভোগ। নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচরের বসতভিটা থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি ৫০ হাজার বানভাসি। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে মানবেতর দিন কাটছে এসব বানভাসির।
দীর্ঘ সময় ঘর-বাড়ি ও ফসলের মাঠ তলিয়ে থাকায় বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষজন। ঘরে খাবার ও হাতে কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে ভুগছে তারা। নলকূপগুলো এখনও তলিয়ে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর যাত্রাপুর গ্রামের হামিদুর রহমান জানান, ‘১৯ দিন পর বাড়িতে ফিরলেও এখনও বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে যায় নাই। ঘরে খাবার নাই। হাতে কাজ নাই, রিলিফও পাই নাই। কি হবে আল্লাই জানে।’
বন্যায় পানির প্রবল স্রোতে কাঁচা ও পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসিদের।
সরকারি ও বেসারকারি পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়হীনতায় ত্রাণ না পেয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে বন্যার্ত অনেক পরিবারের।
চরাঞ্চলের চারণভূমিগুলো এখনও তলিয়ে থাকায় গো-খাদ্যের চরম সংকট নিয়ে বানভাসীরা বিপাকে পড়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, জেলার মৎস্য খামার, বিল ও পুকুর বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে ৩শ’ ২ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। যার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রতীপ কুমার মন্ডল জানান, কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় রোপা আমনসহ ৩৯ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন মৌসুমি ফসল দীর্ঘদিন তলিয়ে থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, বন্যার্তদের জন্য সাড়ে ৯শ’ মেট্রিক টন চাল ও ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণ করা হয়েছে।
ঢাকা, ৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





