ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা:) কে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তির অভিযোগে রংপুরের পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ ও হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেফতারকৃত টিটু রায়কে দু’দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) কঠোর গোপনীয়তায় একটি সাদা মাইক্রোবাসে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসে। সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত টিটু রায়ের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

পরে ডিবি পুলিশের কঠোর পাহারায় টিটু রায়কে আদালত থেকে বের করে একটি প্রিজন ভ্যানে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ডিবি পুলিশের কোন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, টিটু রায় রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। কিন্তু জবানবন্দিতে কি বলেছেন তা জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পরে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

টিটুর আইনজীবী নরেশ চন্দ্র সরকার জানান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্যানেল, পূজা উদযাপন পরিষদ প্যানেল, ব্লাস্টের ৭ সদস্যের আইনজীবী প্যানেল টিটুর জামিন নেওয়ার জন্য ওকালতনামা নিয়ে আদালতের দরজায় সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু আমরা জামিনের আবেদন করতে পারিনি। আমাদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৮ অক্টোবর টিটু রায় নামে এক হিন্দু যুবক ‘এমডি টিটু’ নামের আইডিতে ইসলাম ধর্ম ও হযরত মুহম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে অবমাননাকর উক্তি দিয়ে পোষ্ট দিলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। এই ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ সলেয়াশাহ এলাকায় বিক্ষুব্ধ মুসল্লী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছিলো।

কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই যুবকের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) বাদ জুম্মা সলেয়াসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। জুম্মার নামাজের পর শত শত মানুষ সলেয়াসা বাজার এলাকায় জমায়েত হয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় ওই সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে অবরোধকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেয়ার আহবান জানায়। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের কথা কাটাকাটি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় সংঘর্ষ বেঁধে প্রায় ২ ঘন্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে গুলি, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে ৫ পুলিশ’সহ আহত হয়েছে প্রায় ৬০ জন।

রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে।  সংঘর্ষের সময় হাবিবুর রহমান (২৬) ও সিএনজি চালক হামিদুল ইসলাম (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

নিহত হাবিবুরের স্বজন আজিমুল ইসলাম বলেন, হাবিবকে মৃত অবস্থায় পেয়ে ভর্তি করেনি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ। লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেঝেয় পড়ে রয়েছে। নিহত হাবিবের বোন আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশের গুলিতে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

সেই সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে যুবকের নামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে তাঁর বাড়িসহ ৫ টি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া ১৪ থেকে ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করে তারা।

এমবি