বনানীর ২২তলা এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক। এই আগুনে আহত হয়ে অন্তত ৭৩ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।   

এখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনটিতে সম্ভাব্য অগ্নিকান্ড থেকে পালানোর সিঁড়ি ছিল ঠিকই- কিন্তু তা ছিল তালাবন্ধ।  

“এই ভবনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। ফায়ার এস্কেপ হিসাবে একটি লোহার সিঁড়ি থাকলেও, বিভিন্ন ফ্লোরে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।” বলেন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাজাহান শিকদার।

দেখা গেছে যে অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবন থেকে বেরুনোর এই সিঁড়িটি লোহার ফ্রেমের তৈরি এবং খুবই সরু।  সিনিয়র কর্মকর্তারা জানান, কিভাবে আগুন লাগলো বা ক্ষয়ক্ষতি কতো হয়েছে, আনুষ্ঠানিক তদন্তের পরে তা জানা যাবে। 

আজ (২৯ মার্চ) শুক্রবার এফআর টাওয়ারের তল্লাশী কার্যক্রম শেষ করে দমকল বিভাগ। দুপুর আড়াইটার দিকে ভবনের দায়িত্ব পুলিশের কাছে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে।

শাজাহান শিকদার বলেন, “বিল্ডিংয়ের প্রতিটি স্থান আমরা তল্লাশি করে দেখেছি, আর কোন মৃতদেহ পাওয়া যায়নি” তিনি আরও বলেন, “গতকাল রাতে তল্লাশী করার পর, ভোর ৬টা থেকে আমরা আবার কাজ শুরু করি। নতুন করে আগুনের উৎপত্তি হওয়ার সম্ভাবনাও আর নেই।”

তিনি জানান, ভবনের ভেতর অনেক অফিস এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। খোলা ল্যাপটপ, মানিব্যাগ, ডলার বা টাকাপয়সাও পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

পুলিশ দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই ভবনে যেসব প্রতিষ্ঠানের অফিস ছিল- তাদের প্রতিনিধিদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়। তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আসবেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক মো: জাভেদ পাটোয়ারি বলেন, “'আমরা দমকলের কাছ থেকে ভবনের দায়িত্ব নিয়েছি। এখন বুয়েটের একটি দল ভবনটি পরীক্ষা করে দেখবে যে, এর অবকাঠামো ঠিকঠাক আছে কিনা।”

“এর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যে, কবে নাগাদ ভবনটি পুরোপুরি খুলে দেয়া হবে।”

তিনি জানান, আগুনের ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে তারা আশা করছেন, আহত বা নিহতদের পরিবারের কেউ মামলা দায়ের করতে এগিয়ে আসবেন। না হলে পুলিশ বাদী হয়েই মামলা করা হবে।

ভবনের মালিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে, তবে এখনো কোন যোগাযোগ হয়নি।

বনানীর অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ২৫

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের ২২তলা এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডেরঘটনা ঘটে। ভবনটিতে আটকা পরে অনেক মানুষ। আর এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় ভবনটির ৯তলা থেকে।

বৃহস্পতিবারের (২৮ মার্চ) অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা রাখছেন। আশপাশের এলাকায় পানির সন্ধান করা, পাইপ টেনে নিয়ে যাওয়ায় দমকর্মীদের সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা গেছে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে।

এমবি