আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস এর আহবায়ক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা অধিদফতর।

সচিবালয়েই বসুন আর মাঠ পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তাই হোন, তিনি যে একটা দূর্নীতিবাজ এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এ কারণেই প্রান্তিক কৃষকরা এবং আদিবাসীরা খুব ঝুঁকির মুখে আছে।

রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাইঞ্জে রবিবার বেলা এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফার্ম এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত ‌‍‍‌‘ভূমি সংস্কার আইন, ২০১৪ এবং কৃষিজমি সুরক্ষা আইন, ২০১৫-এর খসড়া বিষয়ে নাগরিক মতামত’শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক তিনি এসব কথা বলেন।

বাদশা বলেন, অতি দ্রুত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ভূমি ব্যবস্থাপনার আমুল পরিবর্তন করা দরকার। ভূমি দূর্নীতি নির্মূল করার জন্য আলাদা একটি কমিশন গঠন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষক সমাজে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় জাল দলিল বানিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রভাবিত করে আদিবাসী এবং প্রান্তিক কৃষকদেরকে জমি থেকে উৎখাত করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংসদ নাজমুল হক প্রধান আওয়ামীলীগ ও বিএনপিসহ ক্ষমতাধর বিভিন্ন শক্তি ভূমিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি, দখলদারিত্বসহ নানা ধরণের অনিয়ম করছে স্বীকার করে বলেন, সবদিকে মানুষ সভ্য হচ্ছে, কিন্তু ভূমির ক্ষেত্রে আমরা সামগ্রিকভাবে অসভ্য হয়ে যাচ্ছি।

বর্তমানে কৃষি জমির ধারণা বদলে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের বাড়ির আবাসন প্লান নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। শহরে যেমন বাড়ি করতে কিছু অনুমোদনের বিষয় থাকে, গ্রামেও তা কিছুটা বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ তা না হলে দেখা যাবে কেউ কৃষি জমিতে বাড়ি করছে, আবার কেউ বাড়ির জন্য বৃহৎ জমি দখল করছে।

এছাড়া আলোচনায় বক্তারা বলেন, সরকারি বিভিন্ন অফিস, আদালত, জেলখানা তৈরি করতে সরকার কৃষি জমি নষ্ট করছে। সে হিসেবে সরকারকেই এ বিষয়ে সব থেকে বেশি সচেতন হতে হবে।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান ভূমি সংস্কার আইন, ২০১৪ এবং কৃষিজমি সুরক্ষা আইন, ২০১৫-এর খসড়া বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।

এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সীমা জামান, এলআআরডি এর চেয়ারপার্সন খুশি কবির, এএলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ব্লাস্ট এর আইন উপদেষ্টা অ্যাড. এস. এম. রেজাউল করিম প্রমূখ।

এমএ/এসএইচ