রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলার কারণে দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না ।

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একাংশের পথচারী ও বাসিন্দাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল।

মাসের পর মাস রাস্তা খুঁড়ে রাখার কারণে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। একটু বৃষ্টি হলেই জমছে কাদা। খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা।

আজ শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটির অধীনে ওই এলাকার বেশকিছু রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ির কাজ এখনও চলছে।

কিছু জায়গায় মাসের পর মাস খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কিছু জায়গায় কাজ শেষ পর্যায়ে আসলেও তা চলাচলের উপযোগী হয়নি।

এর মাঝে সাতরাস্তা থেকে তেজগাঁও রেলগেট হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত রাস্তায় উন্নয়ন কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এ রাস্তাটি লকডাউনের সময় পুরোটাই খাদের মতো করে খুঁড়ে রাখা হয়েছিল।

লকডাউন শেষ হওয়ার পর কাজের গতি কিছুটা বাড়ে। তবে রাস্তাটি এখনও পুরোপুরি নির্বিঘ্নে পথচারী ও যান চলাচলের জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি।

রাস্তা ও ফুটপাত খুঁড়ে রাখার কারণে পাশের মার্কেটগুলোতেও বেচাকেনায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

ওই এলাকার হারুন নামের একজন সাইকেল ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, ‘লকডাউনের সময় রাস্তাটা পুরোপুরি খোঁড়া ছিল।

এখন আগের অবস্থায় নেই। কিছুদিন রাস্তার এমন অবস্থার কারণে অনেক কাস্টমার আসতো না। এখনো আমরা মালামাল আনতে পারি না। গাড়ি আসে না, মালামালও দোকানে আনা-নেওয়া করা যায় না।’

ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া রফিকুল নামের একজন পথচারী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এই পথে নিয়মিত চলাচল করি। কিছুদিন আগে চলার মতো অবস্থা ছিল না। এখন একটু চলাচল করা যায়। তবে বৃষ্টি হলে অবস্থা এখনও ভয়াবহ হয়।’

ওই রাস্তায় নিয়মিত চলাচল করেন মাসুদ মোল্লাহ। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘করোনায় যখন সব বন্ধ ছিল, তখন থেকে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। তখনই যদি পুরোদমে কাজ শুরু করতো, তাহলে এখন আর দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।’

এ ব্যাপারে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সফিউল্লা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র শুরু হয়েছে, কাজ চলছে। শেষ হতে আরও মাসখানেক লাগবে।’

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কিন্তু যখন কাজগুলো শুরু করা হয়, তখন উচিত আরও বেশি জনবল নিয়োগ দেয়া যাতে দ্রুত কাজ শেষ করা যায়।

এ বিষয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ধীরগতির কাজের চাইতে খুব বেশি মারাত্মক হলো কোনো প্রকার সমন্বয় না করে কাজ করা।

একই সঙ্গে কয়েকটি রাস্তায় কাজ শুরু করা এবং তা ফেলে রাখা অন্যায়। জনগণের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি দূর করতেই যদি এসব উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া হয়, তবে অবশ্যই সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।’

একটি রাস্তা যখন খোঁড়া হয়, তখন তার বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

এইচএন