রাজধানী ঢাকা। ঐতিহ্য ঘেরা এই শহরটি যেন দিনদিন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। কারণ প্রতিনিয়তই বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ি। সেই সাথে রাস্তায় বাড়ছে গাড়ির চাপ। ফলে রাজধানী এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। আর এসব যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। আবার রাজধানীতে গণপরিবহন স্বল্পতায় ভোগান্তিও বাড়ছে নগরবাসীর।
ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমলে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। এদিকে ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধন কঠোর করার কথা উঠলেও সেটা যেন বাস্তবায়ন হয়ে উঠছেনা।

প্রতিদিন সকালে রাস্তায় বের হলে দেখা যায়, অফিসমুখী মানুষের বাসে ওঠার যুদ্ধের চিত্র। অসংখ্য যাত্রী হাহাকার হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন বাসের অপেক্ষায় । কিন্তু যাত্রী অনুযায়ী গণপরিবহন কম থাকার কারণে হতাশ হতে হয় অনেককেই। অপরদিকে, রাস্তায় দেখা যায় পরিবহনের বদলে ব্যক্তিগত গাড়ির দাপট। দেখলে মনে হবে যেন রাস্তা দখলে ব্যস্ত এসব ব্যক্তিগত গাড়ি।
প্রতি বছর ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে ৩৭ হাজার গাড়ি । যার মধ্যে ৮০ শতাংশ প্রাইভেটকার বা ব্যক্তিগত গাড়ি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের বিত্তবান পরিবারগুলো একের অধিক গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। একটি পরিবারে ৩ থেকে ৪জন সদস্যের জন্য গাড়ি থাকে পাঁচ থেকে ৬টি। এ ছাড়া সিএনজিতে চলায় এখন জ্বালানি খরচও অনেক কম। এ সুযোগে অনেক মধ্যবিত্ত গাড়ি কিনছেন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে । অন্যদিকে, শহরে পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব রয়েছে। এসব কারণে রাজধানীতে যানজট লেগে থাকছে।
ঢাকা শহরে সড়ক না বাড়লেও প্রতিদিনই প্রায় ১৫০ টি নতুন গাড়ি নামছে। গাড়ির ক্রমবর্ধমান এ চাপ উড়াল সড়ক বা উড়াল সেতু নির্মাণ করেও সামাল দেওয়া যাবেনা। ফলে অদূর ভবিষ্যতে বিশেষ করে প্রাইভেট কারের চাপে ঢাকা পরিণত হবে গাড়িময় স্থবির নগরীতে। এ অবস্থায় কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) মাধ্যমে গাড়ির চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিলেও এর অগ্রগতি সামান্যই।
বর্তমানে রাজধানীতে সড়কের তুলনায় গাড়ি দ্বিগুণ। এর মধ্যে আবার ৭৫ শতাংশ সড়ক অপরিকল্পিত। এখন যানজট নিরসনে যেসব ফ্লাইওভার-উড়ালসড়ক হচ্ছে, সেগুলো অদূর ভবিষ্যতে যানজট কমাতেই ভাঙতে হবে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির রাজধানী সিউলে এক সময় যানজট কমাতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হলেও পরে সেই একই কারণে তা ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নজর দেয়ার পাশাপাশি গাড়ির ব্যবহার কমানোরও উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। আর একই সাথে গণপরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী না করলে ব্যক্তিগত গাড়ি কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।
এমএনজে





