চিকিৎসাধীন এক নারীকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। তার নামে ‘মৃত্যুর প্রমাণপত্র’ (ডেথ সার্টিফিকেট)ও  ইস্যু করা হয়েছিলো। লাশ নিতে চলে আসেন মর্গের লোকজন (ডোম)। কিন্তু প্রায় ৩ ঘন্টা পর জেগে উঠে সবাইকে চমকে দিলেন তিনি।     

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে পুরো ঢামেকে।২ ডিসেম্বর ঢামেকে ভর্তি করা হয়েছিলো অজ্ঞাতপরিচয় (৪৫) ওই নারীকে।  তার স্থান হয় ঢামেকের নতুন ভবনের ৮০২ নং ওয়ার্ডের ৭ নং ইউনিটে।

২ দিন  চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেণ।ওয়ার্ডবয় বেলাল মৃত ঘোষণার কাগজপত্র নিয়ে মর্গ অফিসে যান। মর্গ অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা নূরে আলম বাবু মৃত ঘোষণার কাগজপত্র গ্রহণ করে আজিজ নামে এক কর্মীকে মৃত নারীর লাশ আনতে পাঠান।

আজিজ বেলালকে নিয়ে লাশ আনতে গেলে লক্ষ্য করেন, মৃত’ নারীর হাত-পা নড়াচড়া করছে। এতে পুরো ওয়ার্ডসহ ঢামেক জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।

এসময় চতুর ওয়ার্ডবয় বেলাল মর্গ অফিসের কর্মী আজিজের কাছ থেকে মৃত ঘোষণার কাগজ কেড়ে নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে চলে যান।

এ ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে নাম না বলা সংশ্লিষ্ট নারী চিকিৎসক বলেন, ‘আসলে আমরা যখন তাকে মৃত ঘোষণা করেছি, তখন তার হৃদকম্পন বা শারীরিক কোনো সচলতা ছিল না।’

ওই নারী চিকিৎসকের কাছে  জানতে চায়, ‘মৃত ঘোষিত নারী দুর্ঘটনার শিকার নাকি অন্য কিছু।’ জবাবে তিনি বলেন, ‘অপুষ্টির কারণে তার এ দশা’।

 

রোগী এখনও বেঁচে আছে কিনা জানতে চাইলে ওই  চিকিৎসক বলেন, ‘অবশ্যই বেঁচে আছে’। কথাটি বলেই তিনি ওয়ার্ডবয় বেলালকে স্যালাইন দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন সাথে সাথে  ক্যানোলা করে ওই নারীকে স্যালাইন দিতে থাকেন বেলাল।

 

চিকিৎসাধীন নারী সম্পর্কে জানতে চাইলে তার ভর্তি ফাইলে দেখা যায়, ‘প্রযত্নে: পরিচালক’। কোন ‘পরিচালক’ প্রশ্ন করা হলে ওয়ার্ডবয় বেলাল জানান, ঢামেক পরিচালকের রেফারেন্সে তাকে ভর্তি করা হয়েছে এখানে।

এ বিষয়ে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে  বলেন, ঢামেক জরুরি বিভাগ সংলগ্ন রাস্তায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদকালে ২ ডিসেম্বর ওই নারীকে ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখি। তখন লোকজন দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করি।

তখন ‘মৃত’ ঘোষণার পর জেগে ওঠার ব্যাপারে ‍জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোষী চিকিৎসককে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।

ওই ওয়ার্ডের আরেক রোগী দুলালীর (৫০) ভাগিনা মোয়াজ্জেম হোসেন মঞ্জু বলেন, দুপুরে চিকিৎসকরা ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেল ৫টার দিকে মর্গের লোকজন তাকে ভ্যানে ওঠাতে গেলে তিনি নড়েচড়ে ওঠেন। তখন আশপাশের লোকজনই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।

এমকে