৩০ এপ্রিল শেষ হচ্ছে আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) দিয়ে মোবাইলের সিম ও রিম নিবন্ধন কার্যক্রম। সামনে আর মাত্র ২দিন বাকী। এই সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে ৬০ থেকে ৬৪ শতাংশ সিম নিবন্ধনের কাজ। এতে সরকারের বেধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে মোবাইল সিম ও রিম নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গ্রামীন ফোনের এক নির্বাহী কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনে সিম নিবন্ধন সম্পন্ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই তারা গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে আরো দুই মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন।
তিনি আরো বলেন, অন্যান্য অপারেটরদের একই দশা। তারাও একইভাবে আবেদন করেছেন। তাই সরকারের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে বুধবার পর্যন্ত গ্রামীন ফোনের সিম নিবন্ধিত হয়েছে মোট ব্যবহৃত সিমের ৬৪ শতাংশ। অন্যান্য অপারেটরদের ক্ষেত্রে একই দশা। বর্তমানে দেশে চালু থাকা মোট সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ৮ লাখ। অর্থাৎ আগামী ২ দিনের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি সিম নিবন্ধন করতে হবে। যা কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যা ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই তা শেষ করার তাগিদ রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) দিয়ে মোবাইলের সিম ও রিম নিবন্ধন কার্যক্রমের সময় কোনোভাবেই বৃদ্ধি করা হবে না। ফলে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নিবন্ধনের কাজ শেষ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইলের সিম-রিম রেজিস্ট্রেশন চালু হওয়ার পর এই কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর তা গড়ায় আদালত পর্যন্ত।
মোবাইল অপারেটরদের হিসাব অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই কমতে শুরু করেছে সক্রিয় থাকা মোবাইল সংযোগের (সিম) সংখ্যা। গত তিন মাসে ২৮ লাখের বেশি গ্রাহক হারিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। এতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আরো ৩ থেকে ৪ কোটি সিম।
ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিম নিবন্ধন শেষ হলে মোবাইল গ্রাহক ১৩ কোটি ৩৭ লাখ থেকে কমে ৮-৯ কোটির মধ্যে চলে আসতে পারে। এতো বিপুল সংখ্যক সিম বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব পড়বে মোবাইল অপারেটরদের আয় এবং সরকারের রাজস্বে।
বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬২ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের আঙুলের ছাপ না মেলায় সিম নিবন্ধন সফল হয়নি। পরিচয়পত্র পাওয়া না যাওয়ায় সফল হয়নি আরো ৩৪ লাখ ৯০ হাজার সিমের নিবন্ধন।
এছাড়া সার্ভারে ত্রুটির কারণে ৩ লাখ ৯০ হাজার ও অন্যান্য কারণে আরো ৪ লাখ ৩০ হাজার সিমের নিবন্ধন সফল হয়নি। সব মিলিয়ে আঙুলের ছাপ ও তথ্য না মেলায় নিবন্ধিত হয়নি ১ কোটি সিম।
এমআর





