রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় আরো দু'জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন মনি বেগম (৪৫) ও এখলাসুর রহমান (৩৫)। তারা দু'জনেই নিখোঁজ কনের আত্মীয়।
এর আগে শুক্রবার রাতে এক কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে রাজশাহীর পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিনজনে।
এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরো ছয়জন। নিখোঁজদের খুঁজতে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আবারো উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে চারটি উদ্ধারকারী ইউনিট। এর মধ্যে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি, রংপুর থেকে আসা একটি, বিআইডব্লিউটির একটি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি ইউনিট নদীতে কাজ করছে।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলে। পরে মধ্যরাতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
আজ সকাল থেকে মোট চারটি ইউনিট আবার উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহীর চারঘাটের ইউসুফপুর সীমান্তে পদ্মা নদী থেকে বোরকা পরা অবস্থায় নিখোঁজ কনের চাচি মনি বেগমের লাশ উদ্ধার করেছে বিজিবির টহল দল। আর দুপুর ১টার দিকে নগরীর শ্রীরামপুর পদ্মার মাঝ নদীতে জেলেদের জালে উদ্ধার হয় এখলাসুর রহমানের লাশ। তিনি রাজশাহীর পবার কাঁঠাল বাড়িয়া এলাকার আসলাম আলীর ছেলে।
বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়া উদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার রাত থেকেই বিজিবি সদস্যরা নিখোঁজদের উদ্ধারে ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে রাজশাহী চারঘাট সীমান্ত পর্যন্ত স্পিডবোট নিয়ে টহল পরিচালনা করছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অন্যান্য সংস্থার সাথে তাদের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। চারঘাটের ইউসুফপুর সীমান্তের পদ্মানদী থেকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় মনি বেগম নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
এদিকে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় প্রায় ২২ জন নিখোঁজ ছিলেন। এখন নিখোঁজ রয়েছেন ছয়জন।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের উপ-পরিচালক আবদুর রশীদ জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আবারো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। রাজশাহী, রংপুর ও বিআইডব্লিউটির তিনটি ইউনিট এবং বিজিবির একটি ইউনিট যৌথভাবে পদ্মায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে উজানের পাঁচ শ' মিটার গভীরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মানুষ পানিতে ডুবলে সাধারণত ৩৬ ঘণ্টা পর ভেসে উঠতে শুরু করে। এজন্য নৌ-পুলিশ, মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা রাজশাহীর শ্রীরামপুর এলাকা থেকে শুরু করে পদ্মাপাড় ঘেঁষে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে থাকা চারঘাট উপজেলা পর্যন্ত নিখোঁজদের খোঁজে টহল দিচ্ছেন।
এর আগে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানায়, পদ্মা নদীতে বিয়ে বাড়ির দুটি নৌকা ডুবে যায়। দুই নৌকায় প্রায় ৩৬ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনার পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৩০ জনকে। এরমধ্যে তিনজনকে মৃত অবস্থায় ও বাকি ২৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখনো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তারা শুক্রবার সন্ধ্যায় বরের বাড়িতে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান শেষে নতুন বউ নিয়ে ফিরছিলেন। ফিরোনি অনুষ্ঠানের জন্য বর-কনেসহ কনে পক্ষের লোকজন নদীর ওপারে চরখিদিরপুর থেকে এপারে ফেরার পথে মাঝ নদীতে উত্তাল ঢেউয়ে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছয়জন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এমআর





