ভবন ধসের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সেখান থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাত শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সেনা কল্যাণ সংস্থার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সেলিম অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ভবন ধসের ঘটনা তদন্তে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মারুফ হোসেনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে সেনা কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে তিন সদস্যেরও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মংলা সিমেন্ট কারখানার উপ-মহাপরিচালক (ডিডিজি) ক্যাপ্টেন সৈয়দ হেলাল হোসেন শুক্রবার দুপুর ১টায় বলেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আর কেউ নেই। সব মিলে সাত শ্রমিক নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
খুলনা বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আর কেউ নেই- বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বমোট সাত শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগী কমিশনার আব্দুস সামাদ বলেন, নির্মাণাধীন ভবন ধসের ঘটনা তদন্তে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মারুফ হোসেনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের আশংকা, কারখানার নির্মাণাধীন ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। তবে কোনো শ্রমিকের নিখোঁজের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত সাত শ্রমিকের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- রামপাল উপজেলার রাজনগর গ্রামের মাহারুফ হাওলাদার, গৌরম্ভা গ্রামের আমির আকন্দ ও খুলনা মহানগরের বাগমারা এলাকার আল আমিন। অন্য চার শ্রমিকের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। সাতজনের লাশ মংলা উপজেলা হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
ভবন ধসের ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। তাদের মধ্যে ২৩ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আহতদের অজ্ঞাত রোগী হিসেবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- দেবাশিষ (৩৫), তরুন (৪০), সাহেব আলী (৫০), ইমদাদ (৩৫), মিজানুর রহমান (২২), মাসুদ (৫০), মোজাফফর গাজী (৩২), মশিউর রহমান (৩৫), আল-আমিন (২৫), মাসুদ মিয়া (২৮), হৃদয় (১৮), ছোটন (২৪), ইউনুস শেখ (৪০), শহিদুল (৩৫), রাজু (৩৩), লিয়াকত শেখ (৩৫), আনিস (৩০), মাহবুব-উর রহমান (৩০), নাজিম (২৭), মানসুর (৪৩), মোমিনুল (২৩) ও শিহাব (৪০)।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নির্মাণাধীন ওই কারখানাটির ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে ১৮০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা অর্ধশতাধিক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেন।
ভবন ধসের পর পরই স্থানীয়দের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় এগিয়ে আসেন প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।
উদ্ধার অভিযান শেষে সেনাকল্যাণ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির উপ-পরিচালক ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিন নিহত শ্রমিকের প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেন। আহতদের চিকিৎসা সহায়তারও ঘোষণা দেন তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের ১০ হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেন।
সেনা কল্যাণ সংস্থার মালিকানায় ১৯৯৪ সালে পশুর নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড নামে সিমেন্ট বাজারজাত করে আসছে।
এএইচ





