চোরাচালানের অন্যতম রুট কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত। প্রতিদিনই দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে আসছে মাদকদ্রব্য। বিভিন্ন যানযোগে সীমান্ত সংলগ্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মাদক ব্যবসায়ীদের বসতবাড়ি থেকেও মাদকের চালান যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
সম্প্রতি গত ১ সেপ্টেম্বর রোববার রাত ১০ টার দিকে দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুইদল চোরাকারবারীর মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়।
এলাকাবাসী জানায়, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ ও কৃষকের ছাগল জবাই করে ভূরিভোজ করাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর গ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আরিফ-লালু বাহিনীর সাথে প্রতিপক্ষ সাহাবুল বাহিনীর মধ্যে বন্দুক যুদ্ধবাঁধে। এসময় উভয় পক্ষের ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে।
প্রায় ঘন্টা ব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে গুলি, বোমা ও ইটের আঘাতে গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। চলতি বছরের বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবি সদস্যরা। তার পরও থেমে নেই মাদকের চালান।
ঈদকে সামনে রেখে আরও সক্রিয় মাদক পাচারকারীরা। ঈদের আগে দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী, আবেদের ঘাট, প্রাগপুর এবং নদী পথসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে মাদক প্রবেশ করতে পারে। সার্বক্ষণিক টহলরত প্রশাসনিক বাহিনীর অনেকের সঙ্গে সখ্য রয়েছে।
বিজিবির তথ্যমতে দৌলতপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ কিলোমিটার। সীমান্তে পাহারা দেয়ার জন্য রয়েছে বিজিবির ৩ কোম্পানির অধীনে ১১টি চেকপোস্ট। দৌলতপুর উপজেলার বেশকিছু এলাকা একেবারে ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে।
আর ওইসব পথ ধরেই আসে মাদকের চালান। সীমান্ত সংলগ্ন চৌকি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। একটি থেকে অপরটির বেশ দূরত্ব। যার কারণে বিজিবি সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সহজেই মাদক পাচারকারীরা অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে।
স্থানীয়রা জানায়, জামালপুর, বিলগাথুয়া, ছাতারপাড়া, চল্লিশপাড়া, চিলমারির চর, বাগমারি, বাহিরমাঝি, চরবাহির মাঝি, বাংলা বাজার, ভাগজোত, মুন্সিগঞ্জসহ প্রায় ২৫টি পয়েন্ট রয়েছে যেখান দিয়ে অবাধে মাদক প্রবেশ করে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী ও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীদের নজর ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ফেনসিডিল, গাঁজা ও অস্ত্র বাংলাদেশের সীমান্তে ঢুকে পড়ছে।
সীমান্ত এলাকার সাধারণ জনগণ জানান, যারা মূল ব্যবসায়ী যেমন, চকদিয়ার গ্রামের মাদকের এজেন্ট হাসান, চক সাদিপুর গ্রামের নান্নু, একই গ্রামের মহিবুল, বাশার, সাদিপুরের কাশেম, শাহাপুর গ্রামের এরশাদ, সাদিপুর গ্রামের নাহিদ, ডাঙ্গের বাজার ও পাকুড়িয়া এলাকার লালন, আল্লারদর্গার সাজ্জাদ, যতি, নাঈম, এলাকার হাবু, শাহপাড়া এলাকার জাকির, সাদিপুর গ্রামের মিঠুসহ অন্তত ২০/২২ জন মূল ডিলার যারা ভারত থেকে মাদক বাংলাদেশে নিয়ে আসার কাজ করে।
ভারতীয় নদীয়া মূর্শিদাবাদ জেলার অভ্যন্তর থেকে গঙ্গা আর দৌলতপুরের মুন্সীগঞ্জ সীমানায় এসে পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভরা জোয়ারে অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী পেটে বাতাসের বালিশ বানিয়ে কচুরি পানার ঝোপের নিচে নিরাপদে বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশ করে।
আর একবার নদী পাড়ি দিতে পারলেই অনায়াসে চলে আসবে ২-৩শ’ বোতল ফেনসিডিল। একই কায়দায় আসছে গাঁজা। মহিলারা পেটের সঙ্গে ফেনসিডিল ও গাঁজা বেঁধে নিয়ে তার উপর বোরখা পরে নিরাপদে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এভাবেই বেশিরভাগ মাদক চোরাকারবারিদের দ্বারা এ দেশে প্রবেশ করে।
৩২ বিজিবি জানায়, সীমিত লোকবল নিয়ে সীমান্তের সব ধরনের অন্যায় মোকাবিলায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বিজিবির সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।
ঢাকা,২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





