ফেনীতে মাটি খুঁড়ে মিলল স্কুলছাত্রের লাশ। নিহত আরাফাত হোসেন আবুধাবি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের ছেলে ও ফেনী পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ।
এ ঘটনায় হত্যা করে মাটিতে লাশ পুঁতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মো. সাব্বির হোসেন (১৫) নামে এলাকার এক কিশোরের বিরুদ্ধে।
পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও ভাইকে আটক করেছে ।
জানা গেছে, খেলাধুলা নিয়ে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের পাঠানবাড়ি এলাকার জিবি টাওয়ারের পাশে পরিত্যক্ত জায়গা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন রাত সাড়ে ৯টার কিশোর আরাফাত হোসেন নিখোঁজ হয়।
নিহত আরাফাত হোসেনের মামা এরশাদ হোসেন অভিযোগ করেন, পাড়ার সাব্বিরের সঙ্গে তার ভাগনে আরাফাত হোসেনের খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
এ ঘটনার জেরে সাব্বির রোববার রাত সাড়ে ৯টার আরাফাতকে জেবি টাওয়ারের পাশের পরিত্যক্ত নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাব্বির ওই স্থান থেকে বেরিয়ে আসার সময় এলাকাবাসী আরাফাতের বিষয়ে জানতে চাইলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এরপর থেকেই আরাফাত নিখোঁজ। অনেক খোঁজাখুজির পর তাকে না পেয়ে স্বজনরা ফেনী মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
পরদিন সকালে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই পরিত্যক্ত জায়গাটির এক কোণে মাটিতে পুঁতে রাখা একটি পা দেখে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করলে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করে। নিহত আরাফাতের মামা দাবি করেন—সাব্বির আরাফাতকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দেয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা ফেনীর পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, ধারণা করা হচ্ছে, আরাফাত হোসেনকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে থেঁতলে দেয়া হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত করে তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সাব্বির হোসেনের মা আউলিয়া বেগম ও ভাই মো. আজিয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
সাব্বির হোসেন খুলনা জেলার বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার উত্তর পুলতা গ্রামের সাহাদাত হোসেনের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাঠানবাড়ি এলাকায় একটি বস্তিতে বসবাস করছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার ক্লু উদঘাটন এবং অভিযুক্ত সাব্বিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।





