নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে কয়েক মাস ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়েছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায়। মোট রাজস্ব আয়ের ৩৭ শতাংশ আসে এ খাত থেকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী মন্দা পরিস্থিতিতেও আমরা এমন হতাশাজনক অবস্থা প্রত্যক্ষ করিনি।’

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মূসক আদায়ের হার ছিল গত অর্থবছরের (২০১৮-১৯) এ সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। কিন্তু এপ্রিলে এসে তা গত অর্থবছরের তুলনায় বর্তমানে ২০ শতাংশ কম হয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।

রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ আট হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিপরীতে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৭৬৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। আগের বছরে এ সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ১৭৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এনবিআর কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক রাজস্ব আহরণে তা প্রভাব ফেলেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ পরিস্থিতি আর কত দিন অব্যাহত থাকবে, এ সম্পর্কে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রাজস্ব আদায়ের অবস্থা আরো খারাপ হবে।’

এনবিআরের এ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পর মূসকসহ রাজস্ব আদায়কে আবারও সঠিক পথে ফেলতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে। সবকিছু থেমে রয়েছে। অনেক ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থায়ী বন্ধের মুখোমুখি। সুতরাং আমাদের করের জাল স্পষ্টভাবে সংকুচিত হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, সরকার আগামী দিনগুলোতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তা বলেন, ‘কোভিড-১৯-এর টিকা বা ওষুধ এখনো তৈরি হয়নি। তাই বলা যেতে পারে যে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এদিকে, বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মাথায় রেখে সংশোধিত রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৌশল নির্ধারণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলা হয়, এ পরিস্থিতি এমন নাও থাকতে পারে বা উন্নতি হতে পারে। ‘পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় কৌশল তৈরি করে এগিয়ে যেতে হবে।’

এ ক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, মূসকের লক্ষ্য অর্জনে বেশি রাজস্ব আদায় হয় এমন খাত, যেমন—সুপারশপ, মোবাইল ব্যাংকিং, বিকাশ, সিগারেট, ইন্টারনেট, ওষুধ এসব খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করতে হবে। এ ছাড়া উৎসে কর ও বকেয়া রাজস্ব আদায়েও বিশেষ মনোযোগী হতে হবে।

এএস