সম্প্রতি হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খুন হওয়া আনসার সদস্য সোহাগ আলীর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
রোববার সন্ধ্যায় ছুরিকাঘাতে আনসার সদস্য সোহাগ নিহত হন। এরপর থেকে সোহাগের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মহর আলী জানান, সোহাগের মৃত্যুর খবর শুনে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোহাগের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে তাদের গ্রামের কবরস্তানেই দাফন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মহর আলী বলেন, সোহাগ ৩ বছর ৬ মাস ধরে আনসারে চাকরি করছেন। এই পরিবারে সোহাগই ছিল এক মাত্র উপার্জনকারী। তার বেতনের টাকায় পরিবার চলতো। সোহাগের বাবার নাম মাদার আলী। সোহাগের একমাত্র বোন মাজেদা বলেন, আমার এতো আদরের ভাই গেলো কোথায়? তার তো আমাকে নিয়ে জানুয়ারি মাসে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল।
মাজেদার স্বামী মনিরুল জানান, দীর্ঘ দিন থেকে তারা ঢাকার নতুন বাজার এলাকায় একটি ভাড়াটে বাসায় বসবাস করছেন। তবে সোহাগ আলী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনসার ক্যাম্পে থাকতো বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, সোহাগ শুক্রবারে তাদের বাসায় গিয়েছিল। তখন বলেছিলো তার বোনকে নিয়ে জানুয়ারি মাসে বাড়ি যাবে। বাড়িতে সোহাগের বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন বলেও জানান মনিরুল।
স্থানীয় কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ওমর আলী জানান, সোহাগের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তার বাড়িতে ছুটে যান। তার অকাল মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহির্গমন লাউঞ্জে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে সোহাগ আলী (৩০) নামের এক আনসার সদস্য নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরো তিনজন।
সবুজ/ এআই





