রাজধানী ঢাকার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়েঅভিযোগের শেষ নেই । ভোটার হতে আগ্রহীদের অভিযোগ, তথ্যসংগ্রহকারীরা ভোটারদের বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে না। আর তথ্যসংগ্রহকারীদের অভিযোগ,বাড়ি গেলেও তাদের (ভোটার ইচ্ছুকদের) পাওয়া যাচ্ছেনা।
তাই তথ্যসংগ্রকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটার হতে ইচ্ছুক সহস্রাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে ভোটারদের এলাকায় পাওয়া যাচ্ছেনা বলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহকারীরা চিঠি দিয়েছেন।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার থেকেরাজধানীর মিরপুর, রামপুরা, গুলশান, নতুনবাজার, লালমাটিয়া, বংশাল, নয়াবাজার সিদ্দিকবাজার, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ি, উত্তারা, কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ভোটার হতে ইচ্ছুকগণ নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তথ্যসংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন না। তথ্য সংগ্রহকারীদের না পেয়ে রাজধানীর অনেক নির্বাচন কর্মকর্তা যোগাযোগ করলে তাদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি তারা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেখানে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তথ্য সংগ্রহাকারীরা স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী, ভোটার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে ।
তাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি)আবেদনে যেসব তথ্যসংগ্রহকারী দায়িত্বপালন করেনি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের এলাকায় দ্রুত নতুন তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ করা হোক যাতে করে আমরা নিজ এলাকায় থেকে ভোটার হতে পারি।
অন্যদিকে, রাজধানীর লালমাটিয়া, বংশাল, ইমামগঞ্জ, সিদ্দিকবাজার, মিরপুর, রামপুরা এলাকার তথ্যসংগ্রহকারীরা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করছেন, বাড়ি গিয়ে ভোটার হতে আগ্রহি দু-একজনকে পাওয়া গেছে। যাদেরকে পাওয়া গেছে তাদের ভোটার ফরম পূরণ করা হয়েছে । এছাড়া তারা কোন কেন্দ্রে গিয়ে ছবি তুলবেন তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ বাড়িতে গিয়ে ভোটার হতে আগ্রহিদের পাওয়া যায়নি । এমনকি অনেক বাড়ির কলিং বেল বাজালেও কেউ গেট খুলতে আসেনি। আবার অনেক বাড়ির দারোয়ানও তাদের বাড়ির মধ্যে ঢুকতে দিচ্ছেনা।
তাই ভোটার হতে আগ্রহী কেউ যদি বাদ পড়ে থাকেন তারা যেন কেন্দ্রে এসে ভোটার ফরম পূরণ করে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারণা চালানের জন্য সিইসি স্যারকে অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজধানীতে ভোটার হতে ইচ্ছুকদের অনেকই বিভিন্ন পেশায় জড়িত। এ কারণে তারা সারাদিন বাড়ি থাকেন না, তালাবদ্ধ দেখে তথ্য সংগ্রহকারীরা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহাকারীরা স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী ভোটারকরেছেন । আর একারণে অনেক ভোটার ইচ্ছুকগণ বাদ পড়ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, হালনাগাদে কেউ ভোটার হতে না পারলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আইন অনুযায়ী বাদপড়া ভোটারদের সারা বছরই ভোটার করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে যে কোনো সময় ভোটার হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের মোট ১২০ টি উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের কাজ রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বাদে ১২০ টি উপজেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে।
বর্তমানে ভোটার ৯কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৪১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার চার কোটি ৬১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ জন এবং নারী ভোটার চার কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২১ জন। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ শতাংশ বৃদ্ধির হার ধরে ভোটার বৃদ্ধি হবে ৪৬ লাখ। হালানাগাদ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে আগামী ১৫ নভেম্বর।
ঢাকা, এএম, ১১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





