ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জগন্নাথপুর খোচাবাড়ি এলাকায় প্রেমিক তানভীর আহম্মেদের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে গত ৩ দিন ধরে অনশন করছে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
রবিবার এই বিয়ষে স্থানীয় চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন প্রভাবশালী ছেলের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করলে তা এলাকাবাসী মেনে নেয়নি।
অনশনরত ওই শিক্ষার্থী সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর খোঁচাবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেবের ছেলে তানভীর আহম্মেদ বাবুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই ইউনিয়নের ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের এই এইচএসএসি পরীক্ষার্থীর সাথে।
গত দেড় বছর ধরে সম্পর্কের চলাকালে তানভীর আহম্মেদ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধভাবে মেলামেশা করে তার সাথে। হঠাৎ ওই শিক্ষার্থী গর্ভধারণ করে। তখন সে তানভীর আহম্মেদ 'বাবু'কে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।
তানভীর বিয়ে করতে রাজি হওয়ার আগে শর্ত দেয় গর্ভের ভ্রুণ নষ্ট করতে হবে। বিয়ের জন্য অবশেষে গত ৩ মাস আগে ভ্রুণ নষ্ট করে ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু ভ্রুণ নষ্ট করার পরে বিয়ে করতে বলা হলে অস্বীকার করে তানভীর ।
অবশেষে ওই প্রেমিকা এইচএসএসি পরীক্ষার্থী গত শুক্রবার থেকে প্রেমিক তানভীরের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।
এলাবাসী অনশনের বিষয়টি অবগত হলে স্থানাীয় ইউপি সদস্য কেদার নাথকে অবহিত করেন। পরে ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে এসে প্রভাবশালী ছেলের বাবা মোতালেবকে ম্যানেজ করে অনশনকারী ওই মেয়েকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া কথা জানান। কিস্তু অনশনকারী ওই মেয়ে ছেলেকে বিয়ের জন্য টাকার বিষয়টি মেনে নিতে রাজি হয়নি। ওই ইউপি সদস্য বাড়ি থেকে তানভীর ও তার পরিবারকে সরে যেতেও সহায়তা করে।
গতকাল রবিবার সকালে বিয়ের দাবিতে অনশনের বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় লোকজন বৈঠকে বসলেও শেষ পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মেরাজুল জানান, ছেলের পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অর্থ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই তারা বিয়ের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করছে। তাছাড়া মেয়েটির এইচএসসি পরীক্ষা এই মূহূর্তে একটা সুরাহা না হলে মেয়েটির ভবিষৎ অন্ধকারে নেমে আসবে।
অনশনকারী মেয়ের মা জানান, তানভীর নামে ছেলেটি আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ৩ মাস আগে বাচ্চা নষ্ট করলে বিয়ে করবে বললে উপায় না দেখে শহরে এসে বাচ্চা নষ্ট করি। কিন্তু এখন তানভীরকে বিয়ের চাপ দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে আমার মেয়ে বিষের বোতল হাতে নিয়ে বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে অবস্থান করছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং মেম্বার, ছেলের বাবার কাছে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে মিমাংসা করার প্রস্তাব দেয় আমাকে।আমার মেয়েকে ওই ছেলে বিয়ে না করলে আত্নহত্যা করবে। তার এইচএসসি পরীক্ষা সেটা দিতে পারবে না মনে হয়।
বিয়ের দাবিতে অনশনকারী ওই মেয়ে জানান, তানভীর আমার জীবন নষ্ট করেছে। আমি তাকেই বিয়ে করবো। তার সাথে বিয়ে না দিলে এই বাড়িতেই আত্নহত্যা করবো।
ছেলের বাবা মোতালেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার ছেলে ওই মেয়েকে বিয়ে করবে না। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে মিমাংসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউপি সদস্য কেদার নাথ বলেন, স্থানীয় ভাবে অনশনের বিষয়টি সুরাহা চলছে। সুরাহা না হলে বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অনশনের বিষয়টি আমরা এখনো অবগত নই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেড





