দেশের ২৩৪ পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ও করণীয় নির্ধারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনাররা, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক ও স্বশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ রিটার্নিং কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন সামনে রেখে পৌরসভাগুলোতে আইনশৃংখলা কৌশল নির্ধারণ করা হবে এ বৈঠকে। এ নির্বাচনে আইনশৃংখলা রক্ষায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব নেই কমিশনের। তবে বাড়তি র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করে কীভাবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা যায় সে বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
বৈঠকের জন্য তৈরি করা ইসির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনে চার দিনের জন্য মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোট গ্রহণের আগের দু’দিন, ভোট গ্রহণের দিন ও পরে একদিন মাঠে থাকবে।
সাধারণ ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙখলা বাহিনীর ১৯ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে ৮ জন অস্ত্রধারীসহ মোট ২০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। ওই চার দিনের জন্য মাঠে থাকবেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
এছাড়া ভোটের আগে পৌরসভাগুলোতে চিহ্নিত অপরাধী, চাঁদাবাজ, মাস্তান, অস্ত্রবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালবে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে চার ধাপে আড়াই শতাধিক পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
তখন র্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি সীমিত পরিসরে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে কমিশন থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের চাওয়া হচ্ছে না। তবে র্যাব ও বিজিবির সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ইসির কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্তত ২০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
পৌরসভাগুলোর নির্বাচনী এলাকার আকার এবং জনসংখ্যা বড় নয়। এসব বিবেচনায় পৌর নির্বাচনে সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। তবে বিএনপি জোট নির্বাচনের কোনো পর্যায়ে বয়কট করলে সহিংসতা হতে পারে বলে আশংকা তাদের।
এআই





