কুষ্টিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের অধিকাংশ ভবন। জিকে সেচ প্রকল্পের ৬টি ডিভিশন এবং ৩৯টি চাষি ক্লাবের আওতায় মোট ৪৩৮টি ভবন রয়েছে। দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব ভবনের দরজা-জানালা এমনকি ইট পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে।

আবার অনেক ভবন ইতোমধ্যেই প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। আর অবশিষ্ট যে টুকু আছে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তাও নষ্ট হচ্ছে। তবে বছরের পর বছর কোটি টাকার এসব সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। তবে সরকারী অর্থ বরাদ্দ পেলেই ভবন সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলায় ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় ষাটের দশকে। এই সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রধান খাল রয়েছে ১শ' ৯৩ কিলোমিটার। এছাড়া শাখা খাল রয়েছে ৪শ' ৬৭ কিলোমিটার, উপ-শাখা খাল ৯শ' ৯৫ কিলোমিটার ও নিষ্কাশন খাল রয়েছে ৯শ' ৭১ কিলোমিটার।

১৯৬৩ সালে প্রথম কার্যক্রম শুরু হাওয়ার পর এ অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ঘটে আর্থসামাজিক উন্নয়ন। আর এই প্রকল্পের প্রধান পানির উৎস পদ্মা নদী। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে পদ্মায় পানি কমে যাওয়ায় প্রকল্পের আওতাধীন জমিতে সেচ না পেয়ে শুস্ক মৌসুমে ধানের আবাদি জমি কমতে থাকে। পদ্মার উৎসমুখ ইনটেক চ্যানেল খননের মাধ্যমে ভেড়ামারা জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান খালে পানি স্থিতি রাখা হলেও দীর্ঘদিন পূন:খনন বা সংস্কার না করায় এই প্রকল্পের শাখা-উপশাখা ক্যানেলগুলো ভরাট হয়ে যায়।

ফলে প্রকল্প এলাকার কৃষকরা জমিতে সেচের পানি না পেয়ে অনেকাংশেই ইঞ্জিন চালিত শ্যালো টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি দিয়ে ধান আবাদ করে আসছেন। আবার অনেকেই ধানের জমিতে আবাদ করছেন তামাক, পাটসহ অন্যান্য ফসল। সে সময় বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের খাদ্য সংকট দূর করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পে কর্মরতদের বসবাসের জন্য ১৯৫৬ সালে নির্মিত হয় এসব ভবন। 

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় এখন তা অরক্ষিত। শুধু এসব ভবনই নয়, প্রকল্পের সøুইস গেটম্যান ও সিভিল ডিভিশন কর্মীদের জন্য নির্মিত অধিকাংশ ভবনেরই একই অবস্থা। সংস্কার না হওয়ায় এসব ভবনে পলেস্তারা খসে পড়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ফাটল। এছাড়া অধিকাংশ ভবনের দরজা-জানালা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে, প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পাঁচশ লোকবল নিয়োগের কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র একশ জন। এ কারণে খাল সংস্কার, পানি উত্তোলন ও সেচ ব্যবস্থাপনায় ধীরে ধীরে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, ভবন সংস্কারসহ সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। জিকে সেচ প্রকল্পের ৬টি ডিভিশন এবং ৩৯টি চাষি ক্লাবের আওতায় মোট ৪৩৮টি ভবন রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই ভবন সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

সবুজ/নাজিব