প্রশাসনের আশ্বাসে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার পরিবহন ধর্মঘট ‘স্থগিত’ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

রোববার বিকালে নগরীর বিআরটিসি এলাকায় সংগঠনের কার্যালয়ে ফেডারেশনের অর্ন্তভুক্ত ৩৬টি সংগঠনের নেতারা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুসা জানান, সভা শেষে ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চলের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

“সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সব রুটে যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করবে। তবে দাবি পূরণে আমরা দুই মাস সময় বেঁধে দিয়েছি। এর মধ্যে দাবি না মানলে এরপর আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

এর আগে রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডলের সভাপতিত্বে ধর্মঘট নিয়ে শ্রমিক নেতাদের বৈঠক হয়।

বৈঠকে পুলিশ কমিশনার দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা চাইলেও শ্রমিক নেতারা ফেডারেশনের অর্ন্তভুক্ত সব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা ছাড়া এ ধরণের সিদ্ধান্ত দিতে অপরাগতা জানান।

পাঁচ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। 

রোববার সকাল থেকে নগরী ও জেলায় গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধ থাকলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ ও জেএসসি পরীক্ষার্থীরা।

ধর্মঘট ‍আহ্বানকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে ছিল- অবিলম্বে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার, চট্টগ্রামে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগপত্র দেওয়া, পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা ইত্যাদি।

রোববার দুপুরে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমিক নেতারা তাদের দাবিগুলো ব্যাখ্যা করেন। অধিকাংশ দাবি ‘যৌক্তিক’ উল্লেখ করে সেগুলো পূরণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং দক্ষিণ ও উত্তর চট্টগ্রামের পথের বাসের জন্য কোনো টার্মিনাল না থাকা, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের পরও কাজ শুরু না হওয়া, কভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক লরির টার্মিনালের জন্য জমি বরাদ্দে জটিলতা, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র না থাকা, মহাসড়কে রেজিস্ট্রেশনহীন যান চলাচল অব্যাহত থাকা এবং বিআরটিএ ও পুলিশের হয়রানির বিষয়গুলো

শ্রমিক নেতারা সভায় পুলিশ কমিশনারের সামনে তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা।

জেআই