বস্ত্র খাতের দু’টি আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহযোগিতায় বাংলাদেশ বিজনেস কনসালটিং-বিবিসি আকর্ষনীয় অফার নিয়ে এসেছে।
আগামী জুলাই ও সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে এ মেলা।
এই অফারের আ্ওতায় অর্ধেক মূল্যে স্টল সরবরাহ, স্বল্প মূল্যে থাকা-খা্ওয়া ও আসা-যা্ওয়ার ব্যবস্থা, বস্ত্রখাতের বিশ্বখ্যাত ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়াসহ যাবতীয় দায়িত্ব নিচ্ছে ফ্রান্সভিত্তিক বাংলাদেশ বিজনেস কনসাল্টিং-বিবিসি।
“সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বস্ত্রখাতের রফতানির নিম্নমুখী প্রবণতার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সাথে আমাদের বস্ত্রখাতের উৎপাদকদের সরাসরি যোগাযোগের অভাব, সেজন্যই দেশের বস্ত্রখাতের উন্নতির কথা চিন্তা করে আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি,” বলেন ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী বিবিসির চেয়্যারম‌্যান কাজী এনায়েতুল্লাহ।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাথে বিবিসির সাক্ষরিত একটি চুক্তির আ্ওতায় বস্ত্রখাতের ব্যবসায়ীদের এই সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। বিবিসি এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো যৌথভাবে এই খরচ বহন করবে।
বিশ্বের বস্ত্র বাণিজ্যের অন্যতম বড় আসর প্যারিসের টেক্সওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে টেক্সওয়ার্ল্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য ৫০টি স্টলের বুকিং দেওয়া হয়েছে।
তিনদিনব্যাপী ফাটেক্স ২০১৪ অনুষ্ঠিত হবে জুলাই মাসের ৩-৫ তারিখ এবং টেক্সওয়ার্ল্ড ২০১৪ সেপ্টেম্বর মাসের ১৫-১৮ ফ্রান্সের প্যারিসে।
কাজী এনায়েতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের একজন ব্যবসায়ী সরাসরি টেক্স ওয়ার্ল্ডে স্টল নিতে চাইলে ৭০০০ ইউরো দিতে হবে। কিন্তু একই স্টল মাত্র ৩৫০০ ইউরোতে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি আমরা।
টেক্স্ওয়ার্ল্ডে কেউ আলাদাভাবে অংশগ্রহণ করত চাইলে জনপ্রতি নূন্যতম খরচ হবে ১০,০০০ ইউরো। বিবিসি এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় গেলে জনপ্রতি মোট খরচ হবে ৭০০০ ইউরো। এরমধ্যে থাকা- খা্ওয়া আসা-যা্ওয়া সহ সকল খরচ অন্তর্ভূক্ত।
বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল বরাদ্দ, বিমান টিকেট, হোটেল, ট্রান্সপোর্ট ছাড়াও ব্যবসা প্রসারের স্বার্থে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুবাদক দিয়ে সহযোগিতা করবে এবং প্রয়োজনে ওয়ান-টু্-ওয়ান মিটিংয়ের আয়োজন করবে। বাংলাদেশ বিজনেস কন্সাল্টিং’র প্যারিস ও সোনারগাঁও হোটেলে অবস্থিত ঢাকা অফিস আগ্রহীদের সঙ্গে এ ব্যাপারে সকল ধরনের যোগাযোগ রক্ষা করবে।
কাজী এনায়েতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত বায়িং হাউজগুলোর মাধ্যমে যেসব ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ হয় তারা পণ্যের যথাযথ মূল্য দেয় না। বস্ত্রখাতের পণ্যের প্রকৃত মূল্য পেতে হলে ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে হবে।
এর আগে টেক্স্ওয়ার্ল্ডে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় আটশ প্রতিষ্ঠান এবং ত্রিশ হাজারের অধিক ক্রেতা এবং আমদানিকারকদের উপস্থিতি ছিল । কিন্তু সঠিক উদ্যোগের অভাবে বাংলাদেশের হাতে-গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণ করে।
জনাব এনায়েতুল্লাহ বলেন, যথাযথ উদ্যোগ, উপযুক্ত পদক্ষেপ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই বিশ্ববাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশের উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সুলভ মূল্যে ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে অংশগ্রহণ করে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টির সুযোগ পাবে।
এই মেলায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, তুরস্কসহ শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে তাদের পণ্যের স্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। নতুন-নতুন ক্রেতা ও বাজারের সন্ধান পাবে।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রচার ও জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ফ্রান্সের এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ প্রমূখের সমন্বয়ে বিবিসি ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে।
[b]ঢাকা, ৩১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]