এবার বিতর্কিত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নেতা প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ যাচাই শুরু করছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানও হয়েছেন।

ভাবতেও অবাক লাগে ভুয়ামুক্তিযোদ্ধা কি ভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করবেন। যার নিজেরই কোন বৈধতা নেই।

প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান চাকরিতে যোগদানের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেননি। মুক্তিবার্তার লাল বইয়ে তার নাম নেই। তিনি কোন ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন, কোন সেক্টরে কোন অধিনায়ক বা কমান্ডারের অধীনে যুদ্ধ করেছেন, এ সম্পর্কিত কোনো প্রমাণাদিও নেই বলে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক।

এলজিইডি’র এ প্রধান প্রকৌশলী বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরির সময়সীমা বৃদ্ধি,জালিয়াতির মাধ্যমে সংগৃহিত সনদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার অভিযোগ আসে দুদকে।

জানা যায়, গত ২দিন ধরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজ্ইিডি ভবনের অডিটরিয়ামে জাকজমকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভাগীয় সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ যাচাই চলছে।

আর এ সনদ যাচাই বাছাই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন দুদকের প্রতিবেদনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান।

ইতোমধ্যে সিলেট, রংপুর, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ পরীক্ষা চলছে। পর্যায়ক্রমে বাকি বিভাগীয় মুক্তিযোদ্ধাদেরও সনদ যাচাই বাচাইয়ে নেতৃত্বে থাকছেন প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান।

এদিকে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলসহ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ সম্বলিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে পর্যালোচনা চলছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক উপ পরিচালক জুলকার আলীর দেয়া প্রতিবেদনে ইতোমধ্যে ৪ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিষয়টিও তাকে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে গত ২৯ অক্টোবর এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলসহ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেন উপ-পরিচালক মোঃ ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি।

তবে গত ৯ নভেম্বর ওই প্রতিবেদনটি যাছাই বাছাইয়ের জন্য উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী এলজিইডির প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি এবং এ সনদ ব্যবহার করে সুবিধা নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই দিন তিনি দুদক থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডার প্রহরায় বেরিয়ে যান।

আরও অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম. মোরতুজা হোসেন ও মাহবুবুল হক চিশতির মুক্তিযোদ্ধা সনদও ভুয়া।

তবে দাখিলকৃত সুপারিশ কমিশন পর্যালোচনা করে এতে ওয়াহিদুর রহমান ও অন্য দু’জনের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা রুজুর উপাদান খুঁজে পায় বলে সূত্র জানায়।

ফলে তাদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুদক সরাসরি মামলা করবে, না-কি শুধুমাত্র সনদ বাতিলসহ বিভাগীয় পদক্ষেপগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে।

একে/এসএইচ