ত্রিশালে গত এক সপ্তাহে সাত জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিকনা গ্রামে দুই দিনে তিন জনের আত্মহত্যা ও মঠবাড়ী ইউনিয়নের বাদামিয়া গ্রামে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় দুই সহোদরসহ চার জন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে কি কারণে তিন জন আত্মহত্যা করেছে সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেনি ত্রিশাল থানা পুলিশ। অন্যদিকে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানান, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিকনা গ্রামে আছিরণ নেছা ওরফে এলাচির মা (৭০) নিজ ঘরে আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে একই গ্রামের আবুল মনসুরের ছেলে মিন্টু মিয়াও বাড়ির পাশে ব্র্যাক নার্সারির একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই রাতে চিকনা বেপারী বাড়ির আবু রায়হান (৫০) নিজ ঘরে আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়।
অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের বাদামিয়া গ্রামের আবুল কালামের বাড়িতে মিষ্টি আলু ও আটার রুটি খেয়ে শিশু শাপলা (৯), মো. শহিদুল ইসলামের মেয়ে বিথি আক্তার (৭), আবুল কালামের মেয়ে বাদামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী নাজমা আক্তার (১৩) ও কালামের শাশুড়ি শমেলা বেগম (৬৫) মারা যান।
এ ঘটনায় আরও চার জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মশিহুর রহমানের তত্বাবধানে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়ালিউল্লাহকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি ছাড়াও পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আর অন্য আত্মহত্যাগুলো নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।
জেআই





