পিরোজপুরের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন খান মাসুদ হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশালের একটি আদালত। একইসঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রোববার বেলা ১২টার দিকে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় দেন।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পিরোজপুরের কচুয়াকাঠি এলাকার বাসিন্দা সুলতান হোসেন খানের ছেলে কামরুল ইসলাম খান (৪০), আব্দুর রব খানের ছেলে মনিরুল ইসলাম সান্টু (৩৫), হেমায়েত উদ্দিন সিকদারের ছেলে আল-আমিন সিকদার রনি, দক্ষিণ জৈনকাঠীর মিজানুর রহমান জমাদ্দার (৩৫), পূর্ব আমড়াঘুনির বাসিন্দা মোদাচ্ছের আলী তালুকদারের ছেলে রেজাউল তালুকদার (২৫) এবং সোহরাব খান ও আজিজুল হক খোকন। এদের মধ্যে কামরুল ইসলাম খান, মনিরুল ইসলাম ও রেজাউল তালুকদার রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এ মামলায় খালাস প্রাপ্তরা হলেন- একই এলাকার শাহাদাত হোসেন তালুকদার, নাজমুল হক মুরাদ এবং মো. মোরশেদ।

মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলামেইলকে জানান, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিনের কাছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুবকের গ্রাহকদের টাকা গচ্ছিত ছিল। ওই টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০০৯ সালের ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে কাঠালিয়া উপজেলার কচুয়াখাঠি নামক এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় তার ভাই আল-আমিন খান বাদী হয়ে ওইদিনই কাউখালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্তের পরে ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউখালি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপরেই দ্রুতবিচার প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি ২০১৩ সালের শেষ দিকে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

এ মামলায়  ৩৭জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেন বিচারক।

জেআই