ঠাকুরগাঁও জেলায় মাদক ব্যবসা জমজমাট। অপরাধীরা গ্রেপতার হলেও জামিন পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসা করছেন। ফলে কমানো যাচ্ছে না মাদক ব্যবসা। এদের মধ্যে ফেনসিডিল ব্যবসায়ীর অনেক বেশি।

ঠাকুরগাঁও কোর্ট সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টে (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল) ৭০ বোতল ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাই মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বা জজ কোর্ট থেকে এই ধরনের মামলার আসামিদের জামিন দেওয়া না হলেও মহামান্য হাইকোর্ট থেকে তাদের জামিন হয়েছে। তাই ধরা পড়ার কিছুদিনের মধ্যেই তারা বেরিয়ে যাচ্ছে।

প্রতি মাসেই স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে ২৫/৩০টি করে নতুন মামলা দায়ের হচ্ছে। কিন্তু মামলা নিস্পত্তি হচ্ছে গড়ে মাত্র ৫/৭টি। ফলে মামলার সংখ্যা প্রতি মাসে বেড়েই চলছে।

বিচারক কম থাকায় মামলা দ্রুত নিস্পত্তি হচ্ছে না। বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ে চারজন যুগ্ম জেলা জজের পদ থাকলেও আছেন মাত্র দুইজন। তাদের পক্ষে একদিনে ২৫/৩০টি মামলা নিস্পত্তি করা সম্ভব না। তা ছাড়া অন্য কারণতো আছেই।

জেলার চারটি উপজেলা সীমান্ত ঘেষা হওয়ায় জেলায় মাদক চোরাচালান হয় বেশি। বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গী সীমান্ত এলাকায় শহরের অনেক যুবক ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শহর থেকে অনেক যুবক মোটরসাইকেলে করে ঐ এলাকায় গিয়ে ভারতীয় ফেনসিডিল শহরে নিয়ে আসে।

ফেনসিডিলসহ অনেক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় মোটরসাইকেল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে হাইকোর্ট থেকে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়। জব্দ থাকে মোটরসাইকেল।

কোর্ট সূত্রে আরো জানা যায়, মামলার আলামত হিসেবে প্রায় ৭০টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এগুলি রাখার জায়গা নেই। কোর্ট গুদাম এখন মোটরসাইকেলে ভর্তি হয়ে গেছে। জায়গা না থাকায় অনেক মোটরসাইকেল অফিস কক্ষে রাখা হয়েছে। ফলে অফিস কক্ষেও স্থানাভাব দেখা দিয়েছে।

এমকে