রংপুর বিভাগে গুলেইন বারে সিনড্রম (জিবিএস) ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এরই মধ্যে শুধু রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে মারা গেছেন পাঁচজন।

রমেক হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের প্রধান ডা. বিডি বিধু জানান, গত তিন মাসে জিবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রমেক হাসপাতালসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে কমপক্ষে ২০০ জন। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি।

রমেক হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম সদরের লায়লা আক্তার, আহমেদুল ইসলাম এবং চিলমারী উপজেলার নুরুন নবী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই তিনজনের অবস্থাই আশংকাজনক বলে বিডি বিধু জানিয়েছেন।

তিনি জানান, শিশু ওয়ার্ডে দুই শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জেনারেল ওয়ার্ডের কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে। বিডি বিধু জানিয়েছেন, জিবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক অবস্থায় শরীরে জ্বর জ্বর অনুভব হয়। পরে হাত ও পা অবশ হয়ে আসে। ক্রমে সারা শরীর অবশ হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হলে এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে সারিয়ে তোলা সম্ভব।

তবে এটি ভাইরাস হলেও সংক্রামক নয়। তাই একজনের হলে অন্যজনের হওয়ার আশংকা নেই বললেই চলে। বিডি বিধু আরও জানান, এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে কমবেশি ৫ শতাংশের মৃত্যু হয়, ১০ শতাংশ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায় এবং যথাসময় সঠিক চিকিৎসা পেলে ৮৫ শতাংশ রোগীকে সুস্থ করে তোলা যায়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল কাদের জানান, রমেক হাসপাতালে জিবিএস ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সঠিকভাবে চলছে। এ নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।

কেএইচ