মালিবাগ ও শান্তিবাগ এলাকার বাসাবাড়িতে ঢাকাওয়াসার সরবরাহ পানিতে পয়োবর্জ্য, আবর্জনা ও উৎকট দুর্গন্ধ। এসব পানি খাওয়া তো দূরের কথা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারও করতে পারছে না মানুষ।
ফলে প্রতিদিন ভবনে ভবনে শত শত জার পানি ঢুকছে। বাইরে থেকে আসা এসব পানির মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নিরুপায় হয়ে তারা এসব গ্রহণ করছেন। এলাকাবাসী তাদের সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
মালিবাগ ও শান্তিবাগ এলাকা ঘুরে এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিকার পেতে সেবাগ্রহীতারা মুখিয়ে থাকলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
১৯৮ শান্তিবাগের ইস্টার্ন লিংক ভবনের তত্ত্বাবধায়ক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এ এলাকায় ওয়াসার সরবরাহ পানি খাওয়া তো দূরের কথা গোসল, রান্নার কাজে ব্যবহারও করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে এ ভবনের ২০টি ফ্ল্যাটে প্রতিদিন অন্তত ৫০টি জার রাখা হচ্ছে।
খাবার জন্য সবাই এখন জার পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কেননা, ওয়াসার সরবরাহ পানিতে উৎকট দুর্গন্ধসহ বিভিন্ন আবর্জনা পেয়ে থাকি। এ কারণে ওয়াসার পানি থেকে আমাদের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে।
মালিবাগ আয়েশা কমপ্লেক্সের পঞ্চমতলার বাসিন্দা মো. হাসান মিয়া বলেন, ঢাকা ওয়াসার যে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, সে পানি খাওয়া তো দূরের কথা, ব্যবহার করতে গা শিউরে ওঠে।
কেঁচোর মতো চিকন পোকা, চুল ও ময়লা পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে আমি বাসার ট্যাবে ছাঁকনি দিয়েছি। এর পরও এ পানি নাকে নিলে বমি আসে, উৎকট দুর্গন্ধ।
২১১ শান্তিবাগের বাসিন্দা মো. বাবুল মিয়া বলেন, এ এলাকায় ঢাকা ওয়াসার নতুন পানির লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এ কাজ করতে গিয়ে স্যুয়ারেজ লাইন ও পানির লাইন অনেক জায়গায় এক হয়ে গেছে।
এতে করে পানির লাইনে পয়োবর্জ্য ঢুকে পড়েছে। আমাদের বাসায় পয়োবর্জ্য মিশ্রিত পানি আসছে। এসব পানি খাওয়া তো দূরে থাক, ব্যবহারই করতে পারছি না।
২১৫ মালিবাগের বাসিন্দা অমিত দাস বলেন, রাত ১১টার আগে এ বাসায় পানি আসে। তাও পরিমাণে খুবই কম। এসব পানি ব্যবহার করাও সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাইরে থেকে পানি এনে নিত্য চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইয়ার খান বলেন, শান্তিবাগ ও মালিবাগ এলাকার পানির সমস্যার কথা আমার জানা নেই। বিষয়টি খবর নিয়ে দেখব। যদি এমন অবস্থা হয়ে থাকে, তাহলে ওই এলাকার পানি নিয়ে আমাদের ল্যাবে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করব এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
এবি সিদ্দিক





