সিলেটে পৈশাচিক নির্যাতনে ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সর্বশেষ আসামি স্থানীয় যুবলীগ নেতা আলী হায়দারকে (৩৭) এলাকাবাসীর সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় আলী হায়দারকে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে কেবল সেই গ্রেফতার হতে বাকি ছিল।
ঘাতক যুবলীগ নেতা আলী হোসেন রাজনের লাশ গুম করা ও পুলিশকে ম্যানেজ করার দায়িত্বে ছিলো। সে মূল ঘাতক কামরুলকে বিদেশ পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে।
এদিকে, রাজন খুনের ঘটনার পর ঘাতকদের রক্ষায় জালালাবাদ থানা পুলিশের ভূমিকা ও অর্থের বিনিময়ে মূল ঘাতক কামরুলকে সৌদি আরব চলে যেতে সহায়তার অভিযোগের বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই২০১৫) রাতে জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান ও স্বজনদের বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আমিনুলকে প্রত্যাহার করা হয়।
এসব অভিযোগ তদন্তে এরই মধ্যে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান।
এর আগে, গত বুধবার (১৫ জুলাই ২০১৫) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় এজাহারভুক্ত অপর আসামি চা বিক্রেতা দুলাল মিয়াকে আটক করা হয়। এ নিয়ে ওই মামলায় পাঁচজনকে ধরা হলো।
মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ঘটনার পরই সৌদি আরবে পালিয়ে যান। সেখানে তাকে স্থানীয়রা ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
শিশু রাজনকে সিলেট সদর উপজেলার কুমারগাঁও এলাকায় চোর অপবাদ দিয়ে গত বুধবার সকালে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর পর মাইক্রোবাসে করে লাশ গুমের চেষ্টাকালে মুহিত আলম (৩২) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— মুহিত আলমের ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)। এ ছাড়া তাদের আরেক সহযোগী ইসমাইল হোসেন আবলুছকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
পৈশাচিক ও নির্মম নির্যাতনে নিহত শেখ সামিউল আলম রাজন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাসচালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা শেষে বাবার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরে ১৩ বছরের শিশু রাজন। বুধবার ভোরে স্থানীয় টোকেরবাজার থেকে সবজি কিনে ভ্যানে করে বিক্রি করার জন্য বাসা থেকে বের হয় শিশুটি।
পরে কুমারগাঁও এলাকায় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রেফতার আসামিরা। এ সময় শিশু রাজন হত্যাকারীদের কাছে পানি চাইলে তাকে শরীরের ঘাম খেতে বলে। শেষ পর্যন্ত সেখানেই মৃত্যু হয় রাজনের। এমনকি হত্যাকাণ্ডের সেই ভিডিওচিত্র হত্যাকারীদের একজন মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে এই ঘটনা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়।
কেবি





