রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।
এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২২ কোটি টাকা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, রানা প্লাজায় নিহত ও আহতসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবার ও পরিজনদেরকে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, শ্রম মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও ট্রাস্ট ফান্ড, বিদেশী ক্রেতা সংস্থা প্রাইমেক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩,৬৪৭ টি পরিবারকে এই টাকা প্রদান করা হয় বলে তিনি জানান।
রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথচ ক্ষতিপূরণ পায়নি এমন কোনো পরিবার বা পরিজন নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বাকি রয়েছেন কিন্তু সঠিক কোনো দাবিদার না পাওয়ায় তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যায়নি। যদি দাবিদার পাওয়া যায় তবে সরকার তাদেরকেও ক্ষতি পূরণ প্রদান করবে।
মুজিবুল হক বলেন, বর্তমানে সরকার পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং পোশাক কারখানার নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান ।
বাংলাদেশ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহমদ জানান, সারাদেশে ৩,০৪৬টি পোশাক কারখানার নিরপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে ত্রুটি থাকায় ৩৯ টি কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৪২টি কারখানা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। এ সময় ভবনের নিচে চাপা পড়েন সাড়ে ৫ হাজার পোশাকশ্রমিক। এ ঘটনায় ১১৩৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত ও পঙ্গু হন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছে।
এমআর





