টানা একমাসের হরতাল, অবরোধে বৃহত্তম জেলা শহর মাইজদী, দত্তেরহাট, সোনাপুর, মাইজদী বাজার, বৃহত্তম নোয়াখালীর চৌমুহনী বাণিজ্য কেন্দ্র, চাটখিল, সোনাইমুড়ি, সেনবাগ, কোম্পানিগঞ্জ, কবিরহাট, সুবর্ণচর সহ ৯ উপজেলায় টানা হরতাল অবরোধে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অব্যাহত হরতাল অবরোধে ক্ষতির মুখে অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। প্রতিদিন জেলায় প্রায় ৩’শ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন। একই সঙ্গে শ্রমজীবি হতদরিদ্র মানুষ কাজ না পেয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের দাবি জরুরী। দেশের বিশিষ্ট জনেরা সরকার প্রধানকে বিরোধী দল বিএনপির সাথে সংলাপ করে সমঝোতায় যেতে গত ১ মাস ধরে বলার পরও সরকার এ ব্যাপারে আমলে না নিয়ে বিরোধী দল বিএনপি সহ অপর দলকে মাঠে মিছিল করতে গেলে পুলিশ গুলি করে রাজনৈতিক নেতা কর্মী সমর্থক হত্যা ও আহত করেছে।
অপরদিকে বিরোধী দলও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে লাগাতার অবরোধ ও হরতাল করায় দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জেলা শহর মাইজদীর বিলাস বহুল ব্যবসায়ী মেসার্স নাসির ব্রাদার্স, ইতালী হারুন ক্রোকারিজ, টার্গেট, বিগ বাজার, রাফা, বিশাল সেন্টার, শোভনালয়, চলন্তিকা, মিতালী, নুরজাহান ক্লথ ষ্টোর, মোতালেব ক্লথ ষ্টোর, ওমেন্স ওয়ার্ল্ড, নজীর ক্লথ ষ্টোর, রহমান ক্লথ ষ্টোর, সোবহান ক্লথ ষ্টোর, স্মরনীকা ও নিউ স্মরনীকা সহ অপর ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে প্রতি দোকানে ১০-১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতি দোকানে ১৫-২০ জন কর্মচারী রয়েছে। প্রতিদিন বিক্রি না হলেও দোকানে দৈনিক কর্মচারীদের খাওয়া, বেতন ও বিদ্যুৎ সহ ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। টানা হরতাল অবরোধ থাকায় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জেলা শহরের বাইরের কেনো ক্রেতা শহরে আসতেই পারে না। এতে এমন দিনও আছে দোকানে ১০ টাকাও বিক্রি না হলেও ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা চড়া সুদে ঋন নিলেও প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে ব্যাংকের সুদ।
অন্যদিকে ঢাকা, চট্রগ্রাম থেকে কোনো মালামাল কিনার পর ট্রান্সপোর্ট নোয়াখালী আসতে সম্মত হয় না। আসতে সম্মত হলেও হরতাল অবরোধের কারণে ৩ গুন ভাড়া গুণতে হয়। এই ভাড়া মালামালের উপর ধরতে গেলে ক্রেতারা উত্তেজিত হয়ে যায়। এই ভাবে টানা হরতাল অবরোধ চলাকালে দিনের অধিকাশ সময় দোকান কর্মচারী ও মালামালের নিরাপত্তার কারণে দোকান বন্ধ রাখতে হয়।
অপরদিকে জেলা শহর মাইজদী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সেলিম, হাসান, মতিন ও বেলাল সহ অপর ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যাংক থেকে চড়া সুদে লাখ লাখ টাকা ঋন নিয়ে ব্যবসায় শীত মৌসুমের গরম কাপড় তুলেছি।
টানা একমাস হরতাল অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শহরের বাইরের লোকজন আসতে না পারায় অধিকাংশ শীতের কাপড় দোকানেই রয়েছে। বিক্রি না হলেও প্রতিদিন ব্যাংকের সুদ গুনতে হচ্ছে।
নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক বদিউল আলম জানান, অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কোটি কোটি টাকার কাপড় দোকানে তোলা হয়েছে।
অথচ টানা অবরোধ হরতালে যানবাহন চলাচল না করায় জেলা শহর মাইজদীর বাইরের লোকজন শহরে আসতে না পারায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
একই কথা বলেন, জেলা শহর মাইজদী ব্যবসায়ী মলিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মাঈনউদ্দিন আহমেদ ফরহাদ।
এসএইচ





