ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর হামলা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (১৭ জুলাই) ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় এ নিন্দা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম আবদুল আজিজ আল আসাফ। ওআইসির মহাসচিব ড ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওথাইমিন সভায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ওআইসির নির্বাহী কমিটির সদস্য বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরাও সভায় যোগ দেন।

সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম শুধুমাত্র মানবিক সংকট বাড়ায় এবং দু’টি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কার্যকর আলোচনার পথ বন্ধ করে দেয়। তিনি আল-কুদস আল-শরিফকে রাজধানী হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইসরাইলি দখলদারিত্ব দূর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের সভাপতি, নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে ওআইসির সদস্যদের উদ্বেগ জানাতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে বাংলাদেশের সরকারের সমর্থন ও সহানুভূতি রয়েছে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সংবিধানে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করে সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও বাংলাদেশে ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভুতির কারণে এ পরিস্থিতিতেও জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক ত্রাণ সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ৫০ হাজার মার্কিন ডলার সহায়তা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওআইসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য হিসেবে এবং জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বাংলাদেশ। সভার শুরুতে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রিয়াদ আল মালিকি আল-কুদসে ইসরাইলী আগ্রাসনের সর্বশেষ পরিস্থিতি অবহিত করেন।

সভা শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওআইসির মহাসচিবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে মহাসচিবের সহায়তা চান।

এসএম