পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চলাচলের একেবারেই অনুপোযাগী হয়ে পড়েছে।
রাস্তার মেরামতের নেই কোন উদ্দ্যোগ। প্রশাসনের চোখ যেন দেখেও দেখে না। কারো কোন মাথাব্যাথা নেই।
এলাকার সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে জানায়, “রাস্তাগুলো কি কখোনো ভাল হবে না”। রাজনৈকি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে প্রশ্ন থাকলেও কোন সমাধান হচ্ছে না একাধিক লোকের অভিযোগ। অনেক রাস্তা প্রায় এক থেকে দেড় যুগেও মেরামত হয় নাই।
এই রাস্তগুলো যে একসময় কার্পেটিং করা ছিল তা বুঝা মুশকিল। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ইন্দুরকানী ব্রিজ ঢাল থেকে চৌড়াস্তা মোড় পর্যন্ত মাত্র ৪০০ ফুট রাস্তা মাঝখান থেকে বাদ দিয়ে কয়েক বার সংস্কার করা হয়েছে ।
মাত্র ৪০০ ফুট রাস্তা চলাচলে মারাত্মক ঝুকি থাকলেও সংস্কার না করে বার বার টেন্ডারের অপেক্ষায় বিলম্ব করছে প্রশাসন । ঘটছে প্রায়ই যানবাহনের দূর্ঘটনা। উপজেলার হাসপাতল থেকে ইনদুরকানী বাজার রাস্তা, ইন্দুরকানী থানা থেকে খাঁয়গোহাট, কেওরার মোর থেকে খেজুরতলা বাজার, টগড়া ব্রিজ টোল থেকে টগড়া পুরাতন খেয়াঘাট হয়ে ওয়াবদা বাজার হয়ে কালিবাড়ী বাজার থেকে লাহুরী বাজার, পাড়েরহাট চালনা পোল থেকে বৌডুবী হয়ে কালীবাড়ী বাজার, বৌডুবী বাজার থেকে বাটাজোড় রাস্তা, বলেশ্বর খেয়াঘাট থেকে লাহুরী বাজার, বালিপাাড়া চন্ডিপুর চৌরাস্তা মোর থেকে তালুকদার হাট, বালিপাড়া বাজার থেকে পথেরহাট, ভবানীপুর ফরাজী বাড়ী থেকে - সাঈদখালী বাজার সহ উপজেলার প্রায় ১৫টি জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো চলচলের জন্য চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
অনেক রাস্তা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী সেই সব রাস্তাদিয়ে হাজার হাজার পথচারী এবং স্কুল, কলেজে, মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রীরা দৈনিক আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। প্রায় জায়গায় ভাঙ্গা, ইট উঠানো, বড় বড় গর্ত হয়ে খাল হয়ে গেছে, প্রতিদিনই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারী ও সাধারণ জনগণ।
বিভিন্ন গাড়ি চলাচলের কারণে গর্তে পানি জমা হওয়ায় মটরসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহন দূর্ঘটনার শিকার হয়। এই সব রাস্তা গুলো সিডর, আইলায় সহ বিভিন্ন দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অতিরিক্ত পানি ওঠায় রাস্তা গুলো নষ্ট হয়ে গেছে।
সিডর আইলার মত বড় দূর্যোগ এই এলাকার উপর থেকে যাওয়ার পর থেকেই রাস্তার এই অবস্থা হওয়া সত্ত্বেও প্রধান প্রধান সড়কগুলোর কোন মেরামত হচ্ছে না।
এব্যপারে উপজেলা সমন্বয় মিটিং এ আলোচনা হলেও কর্তৃপক্ষরা কোন সু-দৃষ্টি দিচ্ছে না। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, ইন্দুরকানী বাজারের রাস্তটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় ছিলো।
এখন আমাদের এলজিইডি বিভাগে আসছে আমরা দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করব। এছাড়া অন্যান্য রাস্তাগুলো মেরামতের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরূল হুদা জানান, ইন্দুরকানীর ১৫/১৬ টি রাস্তা জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চলাচলের জন্য অতি বিপদজনক ।
রাস্তাগুলো মেরামতের জন্য স্ব-স্ব বিভাগে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় এমপি মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মহোদয়ের নিদের্শে ইতি মধ্যে কিছু রাস্তার কাজ শুরু করেছে।
রাস্তা মেরামত হলে এলাকার যোগাযোগ ও সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ব্যক্তিবর্গ জানায়, রাস্তাগুলোর টেন্ডার অনেকবার হয়েছে কিন্তু জেলা উপজেলার সরকারী আমলা ও রাজনৈতিক তথা ঠিকাদাররা কোন মতে দায়সারা কাজ করে উদাও হয়ে যায়, যেটুকু সংস্কার করে তা পরবর্তীতে অফিসাররা যখন পরিদর্শনে আসে ১০০-২০০ ফুটের মাথায় গর্ত করে রেখে যায়। গর্তগুলো আর মেরামত না করায় দুয়েক মাসের ভিতর যানবাহন চলাচলের কারনে ছোট গর্তগুলো অনেক বড় বড় গর্তে পরিণত হয়।
কেফায়েত/জেড





