“দুপুরের খাবার স্কুলে খাবো , রোগ মুক্ত জীবন গড়বো” এ স্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কোমলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুসাস্থ্য ও মানসন্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে মিড ডে মিল চালু করায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবর্তন ও ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:হারুন অর রশীদ ২০১৫ সালে যোগদানের পর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন কালে ছাত্র ছাত্রীদের দুপুরের খাবার না খাওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্বল হয়ে পড়ার দৃশ্য তার নজরে আসে।

তিনি গত বছর ১২ আগষ্ট থেকে উপজেলার ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১৭৪৪০জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্ব-উদ্যোগে মিড ডে মিল চালু করেন। মিড ডে মিল কর্মসচীকে বাস্তবায়ন করার লক্ষে শুরু থেকে ৯০টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা সভা, মতবিনিময় সভা, অভিভাবক সমাবেশ ,মা সমাবেশ অব্যাহত রাখেন। এসব কর্মসূচী থেকে অভিভাবক ,শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা একযোগে প্রতিদিন নিজ নিজ বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার স্কুলে নিয়ে আসার বিষয়ে নিশ্চিত করেন এবং তা অব্যাহত আছে।

এদিকে মিড ডে মিল কর্মসূচীকে গ্রহনযোগ্য করে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে তিন সদস্যের একটি তদারকী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি প্রতিদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মুঠো ফোনে খাবারের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

বিদ্যালয় খোলার দিনে উপজেলার সকালের রাস্তায় দেখা যায় অন্যরকম চিত্র। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাঁধে ব্যাগ আর হাতে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা মায়ের হাতের দুপুরের খাবার । সবার চোখে মুখে আনন্দের ঝলকানী। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন ভোরের শীষ দেওয়া দোয়েল পাখি। এ যেন এক অন্য রকম দিন বদলের প্রতিচ্ছবি ।

চরবাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, মধ্যাহ্ন বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা এক সঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছে।আবার যে শিক্ষার্থী খাবার নিয়ে আসেনি অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে সঙ্গে নিয়ে একে অপরের সাথে খাবার ভাগাভাগি করে খাচ্ছে। যার মধ্যদিয়ে পরস্পরের সাথে সহযোগিতার মনোভাব ও সহনশীলতা লক্ষনীয়।

শিক্ষকরা জানান, মিড ডে মিল চালু করার ফলে শিশুদের নান্দনিক মননশীলতার পাশাপাশি তাদের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা ও পরিস্কার পরিচন্নতা বৃদ্ধি পেয়েছে।তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি সমতার লক্ষে সকল বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে অভিন্ন পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে।শিক্ষকরা মনে করেন, মি ডে মিল এ উপজেলায় পরিবর্তনের একটি অন্যরকম কর্মসূচী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: হারুন অর রশীদ বলেন, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা সময় মত দুপুরের খাবার না খেতে পারলে তাদের শারীরিক ও মানসিক গঠনে ব্যাপক ক্ষতি হয়।এ ছাড়া তারা ফুটপাতের বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে প্রায় অসুস্থ্য হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, মিড ডে মিল কর্মসূচী চালু করার ফলে বিদ্যালয় পালানোর প্রবনতা কমে শুন্যের কোটায় নেমে এসেছে।ঝরে পড়ার হার ১৩ ভাগ থেকে ৪ ভাগে নেমে এসেছে। পাঠে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ায় পাশের হার বেড়ে ৯৫ ভাগে উন্নীত হয়েছে।

আরাফাত/নাজিব