দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে এবারো বর্ষাকালীন মৌসুমী ফল আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। আমড়ার বাজার দর ভালো থাকায় এ অর্থকরী ফল বিক্রি করে বাগান মালিক, ব্যাপারী, পাইকার, আড়ৎদার, খুচরা বিক্রেতাসহ সবাই যথেষ্ট লাভবান হচ্ছেন।
এদিকে আমড়া চাষ করে কম খরচে অধিক আয়ের সুবিধা থাকায় এ জেলার অনেক গৃহস্থই এখন বাণ্যিজিকভাবে আমড়া বাগান তৈরির দিকে ঝুঁকছে। কেউ কেউ সড়কের পাশে, পুকুর পাড়ে, বাড়ির আঙ্গিনায় দু’একটি করে আমড়ার চারা রোপণ করছেন।
পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে নাজিরপুর, স্বরুপকাঠী এবং কাউখালীতে আমড়ার বাগান করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই। অন্যান্য উপজেলায়ও আমড়া চারা রোপণের প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ফেরিওয়ালারা ঘুরে ঘুরে আমড়ার ছাল ফেলে বিট লবণ দিয়ে প্রতিটি আমড়া ৫ টাকা করে বিক্রয় করে থাকেন। শহরের অনেকেই চাটনী খাওয়ার জন্য কেজি হিসেবে আমড়া কিনে থাকেন। ইদানিং বিভিন্ন ফাস্ট ফুডের দোকানে আমড়ার মোরব্বার কদর বাড়ছে। আকারে বড়, পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু পিরোজপুরের আমড়া মুখোরোচক বিধায় বিক্রি হয় দেদারছে।
কৃষি কর্মকর্তারা পিরোজপুরের মাটি আমড়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী বলে জানান। চার থেকে পাঁচ বছরে আমড়ার ফলন শুরু হয়। তবে এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল এবং নরম বিধায় কালবৈশাখী, টর্নেডো, সাইক্লোনসহ একটু জোরে বাতাস হলে ভেঙ্গে বা গাছের গোড়া থেকে উপরে পড়ে যায়। এ ছাড়া নিম্নচাপের কারণে, অতি বর্ষণে পিরোজপুর জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে চার-পাঁচ দিন আমড়া গাছের নিচে পানি জমে থাকলে শিকড় পঁচে গিয়ে অনেক গাছ মরে যায়।
কাউখালী এবং স্বরুপকাঠীতে গড়ে উঠেছে শতাধিক আমড়ার আড়ৎ। আমড়ার বেপারীরা শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বাগানে গিয়ে বাগান মালিকদের কাছ থেকে ৭৫০ থেকে ৮০০টি আমড়া ভরা বস্তা গড়ে ১৬০০ টাকায় ক্রয় করে থাকে। এই আমড়া স্বরুপকাঠী ও কাউখালীর আড়তে এনে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। আড়ৎ মালিকেরা এই আমড়া ঢাকাগামী লঞ্চে করে চাঁদপুর এবং ঢাকার মোকামে পাঠান। সেখানে ২৯০০ থেকে ৩২০০ টাকায় প্রতি বস্তা আমড়া বিক্রয় হয়ে থাকে।
স্বরুপকাঠীর আড়ৎদার মো. মোস্তফা শেখ জানান, ভ্যান ভাড়া, লঞ্চ ঘাটের টোল, লঞ্চ ভাড়া এবং অন্যান্য খরচসহ ঢাকা ও চাঁদপুর মোকামে এক বস্তা আমড়া প্রেরণে ২৫০ থেকে ২৭৫ টাকা খরচ হয়ে থাকে। এরপরও তাদের প্রতি বস্তা আমড়ায় ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।
নাজিরপুরের আমড়া বাগানের মালিক কুমুদ বড়াল বলেন, যে হারে আমড়া বাগান সৃষ্টির ঝোঁক দেখা যাচ্ছে তাতে অনেকেই আগামীতে আমড়া বিক্রয় করে স্বাবলম্বী হবেন এবং পিরোজপুরের এই সুস্বাদু আমড়া অচিরেই সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬৫০ হেক্টরের বাগানে এ বছর এই মৌসুমে আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন হবে ৭২০০ মেট্রিক টন। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাগান মালিকরা প্রায় ২০ কোটি টাকা উপার্জন করবে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুন রায় জানান, লাভজনক এই মৌসুমী ফল আমড়া গাছে রোগ বালাই খুবই কম। কিছু কিছু গাছে বৈশাখের শুরুতে নতুন গজানো পাতায় পোকার আক্রমণ হয়। কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা ঘুরে ঘুরে বাগানে গিয়ে চাষীদের বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





