ফেনীতে অপহরণের ৩ দিন পর এক কলেজ ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত ছাত্রের নাম তৌহিদুল ইসলাম (১৯) বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাগলনাইয়া সমিতি বাজার এলাকা থেকে চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপহৃত তৌহিদ মধুপুর জামাল উদ্দিন মুন্সীবাড়ির সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও চট্টগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র।
তৌহিদের মায়ের দাবি পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো মুক্তিপণের দাবিতে তৌহিদকে অপহরণ করে তার ভাই সামছুল আলম ও ভাতিজা খালেদ হোসেন।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শহরের মধ্যম মধুপুর জামাল উদ্দিন মুন্সীবাড়ির সিরাজুল ইসলামের প্রবাসী ছেলের কাছ থেকে ৪৮ লাখ টাকা ধার নেয় তৌহিদের মামা গোবিন্দপুর এলাকার সামছুল আলম। বর্তমানে তিনি স্বপরিবারে ফেনী শহরের এসএসকে সড়কের টিঅ্যান্ডটি কার্যালয় সংলগ্ন বাসায় বসবাস করছেন।
পাওনা টাকা দিতে গড়িমসি করায় সিরাজুল ইসলামের ছোট ছেলে তৌহিদ মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই দিন বিকেল থেকেই তৌহিদ নিখোঁজ হন। পরে অজ্ঞাত একটি ফোন নম্বর থেকে তার পরিবারের কাছে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় নিখোঁজ তৌহিদের মা ছকিনা বেগম বাদী হয়ে তার ভাই সামছুল আলম ও তার ছেলে খালেদ হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করে থানা একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার বিকেলে খালেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খালেদকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক মো. খায়রুল আমিন আগামি ১৬ জুন রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কে বা কারা তৌহিদকে ছাগলনাইয়া সমিতি বাজার এলাকায় চোখ-মুখ বাঁধা অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়া জানান, তৌহিদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
ঢাকা, ১৩ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





