নিষিদ্ধ পলিথিনের দখলে রাজধানীসহ সারা দেশের বাজার। আর এসব পলিথিনের ব্যাগ উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ, বিক্রয় সবটাই হচ্ছে প্রকাশ্যে। আর এসব দেখেও না দেখার ভান করছে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রনকারী কতৃপক্ষ।
সম্প্রতি পলিথিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সাইজের পলিথিন ব্যাগ। বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে কাস্টমাররা নির্বিঘ্নে কিনছে নিষিদ্ধ পলিথিন। বিক্রি হওয়া এসব পলিথিন বোঝাই করা হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনে। পলিথিন ব্যাগের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী, ২৬০-২৮০ টাকা কেজি দরে তৈরি হচ্ছে হাতল ছাড়া পলিথিনের ব্যাগ। আর হাতলওয়ালা ব্যাগ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকা প্রতি হাজার। তবে অধিকাংশ দোকানের গায়েই নেই কোন সাইনবোর্ড।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু বিক্রিই নয়-এখানকার পলিথিনের দোকানিদের অধিকাংশেরই রয়েছে পলিথিন কারখানা। বাজারের আশপাশের বিভিন্ন ভবনের নীচ তলার ছোট ছোট কক্ষে তৈরি হয় এসব পলিথিন। এসব কক্ষ সাধারণত বাইরে থেকে তালা দেওয়া থাকে যা দেখে কোনভাবেই বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী হচ্ছে। এছাড়াও পুরান ঢাকায় কিছু কারখানা আছে যারা দিনের বেলায় প্যাকেজিংয়ের কাজ করলেও রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ তৈরি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান কর্মচারী বলেন, এইহানে যত দোকান আছে এরা সবাই পলির প্যাকেট বানায়। কিন্তু আপনে জিজ্ঞাস কইরা কিছুই জানতে পারবেন না। হগলেই অস্বীকার যাইব। কিন্তু যদি ব্যাগ বানানোর অর্ডার দেন সুন্দর বানায় দিব।
সিয়াম প্যাকেজিং নামে একটি দোকানে ক্রেতা সেজে কথা বললে তারা শপিং ব্যাগ তৈরির অর্ডার নিতে আগ্রহী হয়ে প্যাকেটের পরিমাণ, সাইজ, রঙ, ডিজাইন ইত্যাদি তথ্য জানতে চান। কিন্তু পরবর্তীতে ফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে কথা বললে তারা শপিং ব্যাগ তৈরি করেন না বলে জানায়।
পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন, ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ২০০২ সালে আইন পাশ করা হয়। এই সালেই এক প্রজ্ঞাপনে একশ’ মাইক্রনের (পলিথিন পরিমাপের একক) উপরের পলিথিন দিয়ে সাময়িকভাবে বিস্কুট, চানাচুর জাতীয় কিছু খাদ্যদ্রব্যের মোড়ক দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়। এ আইনে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের শাস্তি রাখা হয় দশ বছরের কারাদণ্ড অথবা দশ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তিরও বিধান রাখা হয়। আর বহন, বিতরণ, প্রদর্শনের শাস্তির মেয়াদ করা হয় দশ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাস পর্যন্ত কারাভোগ অথবা উভয় দণ্ড। পরবর্তীতে ২০১০ সালে (সংশোধনী ২০১৩) ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সার মোড়কীকরণে পাটজাত মোড়ক ব্যববহারের আইন করা হয়।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগরের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি মাসেই পলিথিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাজারে দোকানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এই কর্মকর্তা চকবাজার এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালিত অভিযান প্রসঙ্গে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। একইসঙ্গে তিনি চাহিদানুরূপ পুলিশ না পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এসটি





