রাজধানীর শাহজাহানপুর থেকে খাদিজা ইসলাম সুমির স্বামী নাহিদ জামালকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে শাহজাহানপুর থানার এস আই শামসুল আলম তার স্বামীকে আটকের কথা কয়েকজনের নিকট স্বীকার করলেও পরে তার কাছে আটকের কথা অস্বীকার করে। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। কিন্তু কেউই তার স্বামীর খোঁজ দেয় না। এমতাবস্থায় দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকল না তার। অবশেষে বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন স্বামী খুঁজে না পাওয়া সুমি।

নাহিদ জামালের বাড়ী নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পারশালনগর গ্রামে। তার পিতার নাম রফিউদ্দিন মোল্লা। রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ল্যাব সহকারী কাজ করতেন তিনি।

বিবৃতি তার স্ত্রী সুমি বলেছেন, ‘‘মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আমার স্বামী নাহিদ জামাল তার কর্মস্থল শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর হাসপাতালের সামনের রাস্তা থেকে তাকে আটক করেছে শাহজাহানপুর থানার এস আই শামসুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।"

"শাহজাহানপুর থানার এস আই শামসুল আলম আমার স্বামীকে আটকে পর বেশ কয়েকজনের নিকট আটকের প্রথমে কথা স্বীকারও করেছে। পরে আমি আমার স্বামীর খোঁজ নিতেদিবাগত রাত দেড়টার দিকে শাহজাহানপুর থানায় গেলে পুলিশ আমার সাথে দূর্ব্যবহার করেছে। তখন তারা বলেছে নাহিদ জামাল নামের কাউকে নাকি তারা আটক করেনি। একজন বলেছে, ‘আপনি দিনের বেলায় আসেন।’ অন্য একজন পুলিশ তখন আমাকে ডিবি অফিসে যোগাযোগ করতে বলেছে। আমি তখন থানার হাজতখানায় আমার স্বামী আছে কিনা তা দেখতে চাইলে তারা আমাকে ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়।"

শাহজাহানপুর থানার পুলিশ আমাকে দিনের বেলা থানায় যেতে বলায় আমি আজ সকালে থানায় গেলে তারা আমাকে বলেছেন, ‘আপনার স্বামী নাহিদ জামাল ডিবি অফিসে আছে।’

পরে আমি ডিবি অফিসে খোঁজ নিতে গেলে তারা আমার স্বামীকে আটকের কথা স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি। আমি তখন আমার স্বামীকে না পাওয়ার বিষয়টি শাহজাহানপুর থানায় জিডি করতে চাইলে তারা জিডিটি গ্রহণ করতে বারবার অস্বীকৃতি জানায়।

আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমার স্বামী নাহিদ জামালকে ডিবি অফিসেই রাখা হয়েছে। তবুও আজ বুধবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত তাকে শাহজাহানপুর থানা অথবা ডিবির পক্ষ থেকে আদালতে তোলা হয়নি এমনকি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন সংস্থা এখনো অফিসিয়ালি আমার স্বামী নাহিদ জামালকে আটকের বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেনি।

অথচ বিভিন্ন সূত্রমতে আমি নিশ্চিত যে শাহজাহানপুর থানার এসআই শামসুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রথমে আমার স্বামী নাহিদ জামালকে বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আটক করেছিল। পরে তাকে সেখান থেকে ডিবি অফিসে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে।

যেহেতু অফিসিয়ালি আমার স্বামী নাহিদ জামালকে আটকের বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেনি, এমতবস্থায় আমার স্বামী বর্তমানে কোথায়, কি অবস্থায় আছে তা জানতে না পারায় খুবই দূশ্চিন্তার মধ্যে আছি এবং তার জীবন নিয়ে আমি শংকিত।

আমি আমার স্বামীকে অবিলম্বে সূস্থ্য অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”

জেডআই