মহান স্বাধীনতা দিবসে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: মনে রাখবা তোমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি, কারো কাছে হাত পেতে কিংবা মাথা নত করে নয়, বিশ্বসভায় মাথা উচুঁ করে চলবে বাংলাদেশ।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষক-অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। ওরাই একদিন এ দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী হবে।

শিশুরা যেন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তের দিকে না যায় সেদিকে সবার দৃষ্টি দিতে হবে। বিশ্বসভায় মাথা উচু করে বাঁচাই আমাদের উদ্দেশ্য। মনে রাখবা তোমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি।

আমরা যেখানে রেখে যাবো তোমরাই সেখান থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তিতে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। আর ২০৪১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর হবে বাংলাদেশ।

বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে শিশুরা যেন কোন মতেই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সারাদেশে ও বিদেশে একযোগে একই সময়ে শুদ্ধসুরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। সেই সঙ্গে শুদ্ধসুরে জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।


এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে কয়েক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল অভিবাদন জানায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সর্বস্তরে মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এএস