সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধ, বিকল্প নৌপথ দ্রুত সচল করণে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকার মংলা-ঘষিয়াখালী নদীর খনন কাজ শুরু করেছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনস্থ মুক্তি ভবনে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত ‘মংলা–ঘষিয়াখালী নৌপথের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও স্থানীয় জনমত জরিপ প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে আলোচকরা এ মন্তব্য করেন।

মংলা–ঘষিয়াখালী নৌপথ খনন, এর সফলতা ও স্থানীয় পর্যায়ে লাভক্ষতির প্রশ্নে শুরু থেকে নানামুখী আলাপ আলোচনা চলে আসছে। মংলা–ঘষিয়াখালী নৌপথ সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল ও মংলাবাসী প্রকল্পটির বাস্তবায়ন চায় কি না-সে বিষয়ে দীর্ঘ দুমাস ব্যাপি মতামত জরিপ চালানো হয়েছে।

জরিপ চলাকালে সংগঠনের কর্মীরা স্থানীয় ২২ পেশার পাঁচশত লোকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে প্রকল্পের পক্ষে ৩৮৪ জন, বিপক্ষে ৮৭ জন, ১১ জন জানিয়েছেন তাদের এনিয়ে কোনো ভাবনা নাই। স্থানীয় প্রায় ৭৭ ভাগ লোক মংলা–ঘষিয়াখালী নৌপথ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন চায়।

প্রকল্পের পক্ষে মতালম্বিরা জানিয়েছেন, সুন্দরবন রক্ষায় এর ভেতর দিয়ে সব ধরনের বানিজ্যিক নৌচলাচল বন্ধ এবং রামপাল–মংলা– মোড়েলগঞ্জ তথা বাগেরহাটের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পানি সম্পদ রক্ষায় মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ সচল করতে হবে। কারণ এর দ্বারা শুধুমাত্র এক শ্রেণির দখলদাররা এ সুবিধা নিচ্ছে।

প্রকল্পর বিরোধীতাকরীরা বলছে, প্রকল্পের কাজ শুরু হবার পর থেকে এলাকায় লোনা পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে সাধারণ চিংড়ী চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। স্বচ্ছল রামপাল এলাকায় নতুন করে অভাব দেখা দিচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত বাংলাদেশের অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবন রক্ষায় মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথের গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি মনে করে, মানব সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে জাতীয় সম্পদ সুন্দরবনকে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। নৌপথটি সচল না হলে প্রকল্পের ২৩০ কোটি টাকাই জলে যাবে। সবচেয়ে ক্ষতি হবে পরিবেশ ও প্রকৃতির।

আশিষ কুমার দের উপস্থাপনায় মতামত জরিপ পাঠ করেন তুসার রেহমান। আরো আলোচনা করেন এমদাদুল হক, সঞ্জিব বিশ্বাস, মুর্শিদুল ইসলাম শিমুল, রুহিত হোসেন প্রিন্স, প্রকৌশলী ম এনামুল হক।

জেআই