ঈদযাত্রায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তি সঙ্গী করে ঘরে ফিরছে সাধারন মানুষ। 

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্লা এলাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৪০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ধীরগতিতে থেমে থেমে চলছে যানবাহন।

এই যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। এ ছাড়া মহাসড়কের পাকুল্লা, করটিয়া বাইপাস, নগরজলফৈই, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গায় যানজট পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।

আজ শনিবার সকালে হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট ইফতেখার নাসির রোকন জানান, এলেঙ্গা থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঈদযাত্রায় ট্রেনের শিডিউল চরম বিপর্যয়ে পড়েছে। রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার কমলাপুর স্টেশন থেকে যেসব ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যাবে, সেসব ট্রেনের তালিকা দেওয়া হয়েছে।

যেসব ট্রেন সিডিউল বিপর্যয়ে পড়ছে

শনিবার কমলাপুর স্টেশন থেকে পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ ট্রেন দেরিতে ছাড়বে। বেলা সোয়া ১১টার ‘লালমনিরহাট ঈদ স্পেশাল' ট্রেন ১০ ঘণ্টা দেরিতে রাত সোয়া ৭টায় ঢাকা ছাড়বে। আট ঘণ্টা দেরি করবে ‘রংপুর এক্সপ্রেস’। সকাল ৯টার এই ট্রেনটি বিকাল পাঁচটায় কমলাপুর ছাড়বে। সকাল আটটার চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ আট ঘণ্টা দেরিতে বিকাল চারটায় ছাড়বে। রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৬ টার পরিবর্তে ছয় ঘণ্টা দেরিতে দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাড়বে। খুলনাগামী ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ছাড়বে। এছাড়াও পশ্চিমাঞ্চলগামী কয়েকটি ট্রেন এক ঘণ্টার কম বিলম্বে ছাড়বে।

শুক্রবার রাজশাহী গামী সিল্ক্কসিটি ও পদ্মা এক্সপ্রেস দেরি করে ছয় ঘণ্টা। চার ঘণ্টা দেরি করে রংপুর এক্সপ্রেস। সকাল ৬টার রাজশাহীগামী 'ধূমকেতু এক্সপ্রেস' ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ১১টায়। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে গিয়ে টাঙ্গাইলে লাইনচ্যুত হয়।

এ কারণে আড়াই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের সব ট্রেন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে এ দুর্ঘটনার কারণে।

এমআর