এই বর্ষা মওসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান বন্যায় তলিয়ে গেলেও রংপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা হয়নি। উল্টো সেখানে চলছে খরা পরিস্থিতি। অবস্থা এমন যে জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আমন ধানের চারা রোপন করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। কোথাও কোথাও জমিতে ফাটল পর্যন্ত দেখা দিয়েছে।
আমনের জমি চাষযোগ্য করে তুলতে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা টাইম নিউজকে জানান, এরই মধ্যে জেলায় মোট ৯শ ৯৫টি গভীর নলকূপ ও কয়েকশ অগভীর (শ্যালো) সেচ মেশিনের সাহায্যে জমিতে পানি সেচ দিচ্ছেন তারা।
রংপুরের আশপাশের জেলাগুলোতে এখনও চলছে বন্যা। কিন্তু এ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যামুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে পীরগঞ্জ,বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার বদলে চলছে খরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও পানির অভাবে চাষের জমি ফেটে চৌচির। কৃষকরা বাধ্য হয়ে পেট্রোলচালিত শ্যালোমেশিন ও বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপের পানির সাহায্যে আমন ধানের চারা রোপন করছেন। এতে করে তাদেরকে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সেচের মাধ্যমে জমি চাষ করছেন এমন কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। এরা হলেন-পীরগঞ্জ এলাকার আমিনুল ইসলাম, মিঠাপুকুরের মোস্তফা, বদরগঞ্জ এলাকার শফিকুল, তারাগঞ্জের লাল মিয়া।
এসব কৃষকরা টাইম নিউজকে জানায় , চলতি মৌসুমে জমিতে ধান চাষ করেছেন। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির পানি পেয়ে তারা চারা রোপন করেছিলেন অনেক জমিতে। কিন্তু বাদবাকি উঁচু জমিতে পানি না থাকায় শ্যালোমেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপন করা হচ্ছে।
কৃষক মোহাম্মদ হোসেনও এখন শ্যালোমেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপন করতে হচ্ছে বলে টাইম নিউজকে জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আ,খ, ম, আশরাফ আলী টাইম নিউজকে জানান, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১লাখ ৫৯ হাজার ৬শ ২৬ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১লাখ ২৭ হাজার ৪শত ৭৫ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপন করা হয়েছে।
বৃষ্টির পানি দিয়ে এসব জমির ধানের চারা রোপন করেছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা। বাকি জমিতে পানি না থাকায় এবং কোথাও কোথাও জমি শুকিয়ে ফেটে যাওয়ায় চারা রোপনের জন্য কৃষকদের নির্ভর করতে হচ্ছে শ্যালো মেশিন ও গভীর নলকুপের পানির ওপর।
আশরাফ আলী জানায়, রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবছর বিদ্যুৎ দিয়ে গভীর নলকুপ ৯শত ৯১টি ও ডিজেল ৩টি সেচের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎচালিত শ্যালো মেশিন কৃষক ব্যবহার করছে ১৫ হাজার ১শত ৭৩টি।ডিজেল শ্যালো মেশিন ৬হাজার ৯শত ২৯টি, এলবিচালিত ৬৪টি, এলবি ডিজেল ৮৫টি মেশিন সেচকাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
পীরগঞ্জ উপজেলার বড় মির্জাপুর গ্রামের কৃষি-শ্রমিক আরিফুল ইসলাম, আয়নাল মিয়া ও কবির মিয়া টাইমনিউজকে বলেন,‘‘ঝঢ়িড়(বৃষ্টি)পানিত জমি গারা হোছে।এলাকাত আরো জমি গারব্যার আছে।সেগল্যা কিন্যা পানি দিয়া গারা নাগোছে।’’
বদরগঞ্জ উপজেলার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘গ্রামের মানুষ হামরা, অনেক কষ্ট করে ভুঁই আবাদ করছি।জমি ফাটিয়া গেছে ভাই পানির অভাবে। তাই আমরা শ্যালো মেশিন দিয়ে জমি চাষ করছি।’’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশরাফ আলী টাইম নিউজের সঙ্গে আলাপকালে জানান, বৃষ্টির পানি দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১লাখ ২৭ হাজার ৪শত ৭৫ হেক্টর জমিতে এ পর্যন্ত ধানের চারা রোপন করেছেন কৃষকেরা।বাকি জমিতে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপন করছেন তারা। আশরাফ আলী আশা করছেন, এবছর ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এ অঞ্চলে।
এসএ/টাইম





