বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্যায় এরই মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১ জন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা যমুনার পানিতে প্লাবিত হওয়ার পর গত ১০ ঘণ্টায় এই ৩ জনের মৃত্যু ও ১ জনের নিখোঁজ থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়।

পরিস্থিতি পরিদর্শন ও মোকাবেলায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালউদ্দিন আহমদ, ত্রাণ ও দু্র্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব গৌতম ভট্টাচার্য, বগুড়ার ডিসি শফিকুর রেজা বিশ্বাস, এসপি মোজাম্মেল হক ও সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদা ইয়াসমীন অবস্থান নিয়েছেন দুর্গত এলাকায়। সকালে প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে মাঠে নেমেছিলো সেনাবাহিনীও।

তবে কামালপুরে বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে প্রবল তোড়ে পানি প্রবেশ করতে থাকায় প্রতি মুহূর্তেই পানি বাড়ছে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সকালেও যাওয়া গেছে এমন অনেক এলাকা দুপুর নাগাদ ডুবে গেছে পানির নিচে। অনেকেই ঘরের আসবাব, টিনের চাল ভ্যানগাড়িতে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

বগুড়ার নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ৩ জনের মৃত্যু ও ১ জন নিখোঁজ থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের কর্মীরা এরই মধ্যে ১শ’ গ্রামে অন্তত ২৫ হাজার পরিবার পরিদর্শন করেছেন।

তার হিসেবে সারিয়াকান্দিতে ১১ ইউনিয়নে সোয়া লক্ষ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। সকাল ৯টা পর্যন্ত প্লাবিত হয়েছে ২০১ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকার সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমি।

সারিয়াকান্দির দুর্গত এলাকায় সকাল ৯টা পর্যন্ত ৯৫ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পাশের উপজেলা ধুনটে বিতরণ করা হয়েছে ৬০ মেট্রিকটন চাল।

উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের এমপি আব্দুল মান্নান এর সরবরাহ করা ১৩টি নৌকাও।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানান, দ্রুত দুর্গতদের তালিকা তৈরি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেবে, যমুনার পানি এখন বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ‍উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানির প্রবল চাপে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দু’টার দিকে কামালপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ বাজারের উত্তর পাশে বাঁধটির ৫০-৬০ ফুট অংশ ভেঙ্গে বিলীন হয়ে যায়। ফলে সারিয়াকান্দিসহ বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যাকবলিত হতে শুরু করে। এর ফলে বগুড়া শহরও বন্যা কবলিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে ওই অংশ দিয়ে প্রবল তোড়ে যমুনার পানি প্রবেশ করছে জনপদে।

ভেঙ্গে যাওয়ার আগে বাঁধের ওই ‍অংশে ফাটল দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চালায়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় জনতাও। তবে সব প্রচেষ্টা ভেস্তে দিয়ে মধ্যরাতে বাঁধটি ভেঙ্গে যায়।

এর এক ঘণ্টার মধ্যেই পানিতে প্লাবিত হয় কামালপুর, চন্দনবাইশাসহ সারিয়াকান্দির আরও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ভেসে যায় অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি। বিস্তীর্ণ জনপদে শুরু হয় আতঙ্ক। গবাদিপশু, ধান-চাল ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র অপেক্ষাকৃত উচু স্থানে সংরক্ষণের জন্য ছোটাছুটি শুরু করে গ্রামবাসী।

মসজিদে মসজিদে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ