আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

ঘটনার তিন বছর পর বুধবার সন্ধ্যায় এ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা এবং হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে অপর দুই ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, তাদের দেহরক্ষী আনিসুর রহমান রাজা ও মোহাম্মদ আলী, সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, সমীর, ফরিদ আহমেদ, দারোয়ান বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন (চাঁন), নাসির উদ্দিন (নুরু), ছানোয়ার হোসেন ও সাবেক পৌর কমিশনার মাছুদুর রহমানসহ ১৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

এদের মধ্যে আনিসুর রহমান রাজা ও মোহাম্মদ আলী গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় আনিসুল ইসলাম রাজাকে।

একই অভিযোগে মোহাম্মদ আলী নামে আরো একজনকে গোয়েন্দা পুলিশ গত ২৪ আগস্ট গ্রেফতার করে। তারা দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন।

২০১৪ সালের মার্চে ওই মামলায় রাজা নামের এক সন্ত্রাসী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাজা টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাইয়ের এ হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা স্বীকার করে।

এর পর থেকে আলোচিত খান পরিবারের চার ভাই আমানুর রহমান খান রানা, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, টাঙ্গাইল চেম্বার অ্যান্ড কমার্স (ব্যবসায়ী ঐক্যজোট) সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ বলেন, ‘খুনিরা দেশে থাকলেও পুলিশ কী কারণে তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’ তিনি সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

এমকে