পাবনা শহরের রাধানগর মক্তব রোডের গরীব রিক্সাচালক সফিন শেখ ও গৃহপরিচারিকা আনিছা খাতুনের বড় মেয়ে শাপলা খাতুন ওরফে সুমি (৩০) বিগত ১০ বছর ধরে বিভিন্ন বাসা বাড়ি ও মেসে ঝিয়ের কাজ করতো। সুমির খালাতো ভাইয়ের সাথে তার প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। ওই সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন বাড়িতে কাজের সুত্র ধরে পাবনা থেকে সুমি পাড়ি জমায় কক্সবাজারে এবং সেখানে এক ডাক্তার পরিবারে কাজ শুরু করে। কিছু বাড়তি রোজগাড়ের জন্য অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে সুমি।
সম্প্রতি তার জালে আটকা পড়ে কক্সবাজারের এক ডাক্তার পরিবারের আত্মীয় কক্সবাজারের ইনানীতে সদ্য নির্মিত একটি পাঁচতারকা হোটেলের কনসালটেন্ট মবিন উদ্দিন।
এলাকাবাসী জানায়, দিনমজুর রিক্সাওয়ালা সফিন শেখ-এর মেয়ে ঝিয়ের কাজ করে হঠাৎ করে কিভাবে কোটিপতি বনে গেল সেটা তাদের কাছেও বোধগম্য নয়। রাধানগর
এলাকাবাসী জানায়, সুমি প্রথম দিকে ব্যাচেলর মেসে ঝিয়ের কাজ করতো, এবং মেসে বসবাসরত ছেলেদের সাথে অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে গেলে এলাকাবাসীর চাপে মেসে কাজ করা বন্ধ হয়ে যায় তার।
এর পর সে কাজ নেয় কক্সবাজারের এক ডাক্তার পরিবারে। সর্বশেষ ষাটোর্ধ এক ইঞ্জিনিয়ার ফাঁদে পড়ে এই বহুরূপী কাজের বুয়ার।
অর্থ আত্মসাতের একটি প্রাথমিক অভিযোগের সুত্র ধরে পাবনা সদর থানায় সুমিকে প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমি পুলিশকে জানায়- সে ইঞ্জিনিয়িার মবিনকে বিয়ে করেছে।
উল্লেখ্য, উক্ত প্রকৌশলীর স্ত্রী ও ১৯ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে, তারা ঢাকায় বসবাস করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাধানগরের এক ব্যক্তি জানান, রাধানগরের যে বাসায় এই কাজের বুয়া ভাড়া থাকে সেই বাড়ির মালিক সম্প্রতি কাজের তাকে মৌখিকভাবে বাসা ছেড়ে দিতে বলেছেন।
সুমি নামে এই গৃহপরিচারিকা কিভাবে এত বিত্তবৈভবের মালিক হলো সেটি এলাকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন। ব্যাংক ব্যালেন্স, রাধানগড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বাড়ি, টিভি, ফ্রিজসহ দামী সব আসবাবপত্র কী করে একজন রিক্সাওয়ালার মেয়ের দখলে এলো- সেটি এখনই তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
অপরদিকে ইঞ্জিনিয়ার মবিন উদ্দিন এর অর্থের উৎসও খতিয়ে দেখবার জন্য এরই মধ্যে দুদকে একটি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংষের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই কাজের বুয়া সুমি ও ইঞ্জনিয়ার মবিন উদ্দিনের মতো চরিত্রহীনদের আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে মনে করেন এলাকাবাসী। কক্সবাজার থেকে ইঞ্জিনিয়ার মবিনের হাত ধরে সুমির মাধ্যমে পাবনায় মাদক ছড়িয়ে পড়ছে বলেও অনেকে সন্দেহ পোষণ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে ইঞ্জিনিয়ার মবিন উদ্দিনের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি তার মুঠোফোন রিসিভ করেননি।
সূত্র: দৈনিক চলনবিল (২৬.০২.১৫ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত)
জেএ





