যাঁরা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করছেন, তাঁদেরকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর এফডিসিতে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট শিরোনামে ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ বিষয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে প্রতীকী সংসদ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তাজুল ইসলাম। এ আলোচনা জাতীয় সংসদে আয়োজন করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির পক্ষে জনমত তৈরিতে ভাড়াটে বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হচ্ছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অনেক প্রকল্পে সরকারের অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তার কারণে দেশের ক্ষতি হচ্ছে।

আলোচনার বিষয়ে একমত হলেও নিজেদের যুক্তির পক্ষে অনড় অবস্থানে ছিলেন তাজুল ইসলাম ও আনু মুহাম্মদ।

তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানের অন্য অতিথি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ইউনেসকোসহ কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে তথ্যসমৃদ্ধ কোনো প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাখিল করেনি।

তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে এবং এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে পানিদূষণের ঝুঁকিও সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, চীন ও জাপানে ব্যাপকভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা বিবেচনা করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি করা হয়েছে।

জবাবে আনু মুহাম্মদ বলেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে। চার কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মধ্যে পড়বে।

তিনি সুন্দরবনকে মহাপ্রাণ উল্লেখ করে এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে বিরত থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের আহ্বান জানান।

আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, সুন্দরবনের বিনিময়ে কোনো কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের মধ্যেও অনেকে আছেন, যাঁরা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করাকে সমর্থন করেন না। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে জাতীয় এই ইস্যুতে সংবিধান সংশোধন করে গণভোট দিয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে নিষ্পত্তির দাবি করেন ছায়া সংসদ বিতর্কের সভাপতি হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

এসএম