ভয়ের চাদর দিয়ে পুরো দেশকে ঢেকে দেয়া হয়েছে-এমন মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এমন নির্লজ্জ ও হৃদয়হীন শাসক তিনি অতীতে কখনো দেখেননি।

রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে “কোটা সংস্কার: ছাত্রকম্পের ন্যায্যতা“ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

মান্না বলেন, কোটা সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের ছাত্র সমাজ যে জেগে উঠেছে সেই গণজোয়ারকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রুপ দিতে হবে।

তিনি কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বকে আরো বুদ্ধিমত্তার সাথে আন্দোলন চালিয়ে যাবার আহবান জানিয়ে বলেন, ছাত্র নেতৃত্বের চিন্তায় সংস্কার আনতে হবে।

তিনি শুধু পরিচিত মুখের ‍দিকে না তাকিয়ে কোটার নামে নির্লজ্জ দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ বন্ধে এবং প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবীদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ চাকরিতে নিয়োগ দানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষকদের আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

আইনবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সংগঠন ও মানবিক দুর্যোগ বিষয়ক আইনের শিক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাইমুল আহসান খান বলেন, শুধু মার্কসীয় শ্রেনীতত্ত্ব দিয়ে আজকের সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজ সর্বত্র অপমানিত হচ্ছে। আজকে যেসব শিক্ষার্থী কোটা সংস্কারের আন্দোলন করছে স্বাভাবিকভাবেও তাদের অনেকের চাকরি হবে না।

কোটা থাক বা না থাক সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেভাবে পদে পদে নাজেহাল হচ্ছে দেশের বোদ্ধা মহলকে সেদিকে নজর দেয়ার আহবান জানিয়ে অধ্যাপক মাইমুল বলেন, সমস্যার মূলে আমাদেরকে যেতে হবে।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি‘র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হলেও বাস্তবতা হলো স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজ মুক্তিযুদ্ধ কোটা বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেভাবে জেনেটিক্যালি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং মেধার যেই অসম্মান করা হচ্ছে তা কখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্মান হতে পারে না।

তবে, আজ কোটাবিরোধী যে গণ-আন্দোলন জেগে উঠেছে তার মূলে রয়েছে ব্যাপক বেকারত্ব। তাই সার্বজনীন কর্মসংস্থানের দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, আজ আমরা যে যতটাই মেধাবী বা যোগ্য হই না কেন এজন্য আমরা সমাজ, পরিবার ও দেশের কাছে ঋণী। তাই সেই ঋণ শোধ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

ছাত্রলীগ নেতাদের বেপরোয়া আচরণের সমালোচনা করে সেলিম বলেন, শিক্ষকদের চড়-থাপ্পর মারা হচ্ছে, তাদেরকে অপমান করা হচ্ছে।

শুধুমাত্র দলীয় পরিচয়ের কারণে অপরাধীরা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে সেলিম প্রভাবশালীদের প্রাধান্য পাওয়ার যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে তা থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানান।

কেবি