চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করার জন্য একটি কুচক্র মহল কাজ করে যাচ্ছে। সব ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করারও আহবান জানিয়েছেন চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদ।
সোমবার(১৭এপ্রিল) সকালে রাজধানীর লালবাগের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক মতবিনিময় সভায় তারা এ দাবী করেন।
সভায় বাংলাদেশ ট্যানারি এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, মাত্র একমাসের মধ্যে আমাদের মামলার নিস্পত্তি করা হয়েছে। পরিবেশবাদীদের দাবী আমরা বুড়িগঙ্গা দুষিত করছি। অথচ আমরা মাত্র ৫ শতাংশ দূষণ করছি।
অপরদিকে, চায়না কম্পানিকে সিটিবি প্লানের জন্য যে কাজ দেয়া হয়েছিল তার সময়সীমা ১৮ মাস থাকলেও পাঁচ বছরেও তারা কাজ শেষ করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন শাহিন আহমেদ। কিন্তু বিসিক কিংবা চায়না কম্পানীকে আদালতের কাছে জবাবদিহী করতে হয়নি।
ট্যানারি এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিজেদেরকে ভিকটিম হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সরকার এখনো তাদের জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। সিটিবি প্লানও এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শাহিন আহমেদ বলেন, সরকারের ব্যর্থতায় আজ তাদেরকে আদালতের সামনে হাত জোর করে দাঁড়াতে হয়েছে। ট্যানারি শিল্পের ৮০০০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানী আদেশ বাতিল হয়েছে।
এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্দোলন সারাদেশের বিভাগীয় শহরে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, এই শিল্পকে হেয় করতে দেয়া হবে না।
শাহিন বলেন, এই শিল্প ধ্বংসে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এই ষড়যন্তকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। এরইমধ্যে এই শিল্পে যতটুকু ক্ষতি হয়েছে তা তা পূরণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর যেন কোন ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
ট্যানারি এ্যাসোসিয়েশনের আরেক নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ মাহি বলেন, পূণর্বাসনের ব্যবস্থা না করে ট্যানারি বন্ধ করে দেয়ায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। চামড়া কিনতে না পারায় মাংসের দাম বেড়ে যাবে। প্রান্তিক কৃষক গরুর ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস কুরবানীর চামড়া। সরকারের এমন একগুয়েমির ফলে এতিমখানাগুলোও হুমকির মুখে পড়বে, অনিশ্চিতি হয়ে পড়বে লাখ লাখ এতিমের ভবিষ্যত।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশবাদী কিছু লোকের ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে আমাদের এই দুরবস্থা। সামান্য ভাল করতে গিয়ে কত বড় ক্ষতি করে ফেললেন।
মাহি বলেন, আমরাও আন্তর্জাতিক মানের ট্যানারি চাই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই। তাই বলে একটি শিল্পকে ধ্বংস করে সুন্দর ভবিষ্যৎ হতে পারে না।
সভাপতির বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা নিশ্চিত এর সাথে তৃতীয় শক্তির হাত রয়েছে। নইলে এত এত পরিবেশবাদী সংগঠন থাকতে বেলার মত একটি সংগঠন আমাদের পিছে লাগতে যাবে কেনো। যারা এই সমস্যার জন্য দায়ী তাদের নামেতো বেলা কোনো মামলা করলো না। তুরাগ নদীর তীরে গড়ে ওঠা হাজার হাজার গার্মেন্টস তুরাগকে ধ্বংষ করছে, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষা ধ্বংস হয়েছে, কর্ণফুলী ধ্বংসের পথে। কোথায় বেলা? কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেনো মামলা হয় না।
দেলোয়ার হোসেন আরো বলেন, আমরাও চাই সুন্দর একটি পরিবেশ উপহার দিতে। তার মানে এই নয় যে হাজার হাজার মানুষের মুখের আহার কেড়ে নেয়া হবে। চামড়া শিল্প ধ্বংষের পায়তারা চলছে এর দায় নেবে কে?
তিনি হুঁসিয়ার করে বলেন, সকল চামড়া ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসার সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরী করে দেয়া না হলে সমগ্র দেশ থেকে চামড়া ব্যাবসায়ীদের ঢাকায় এনে কঠোর আন্দোলন করা হবে। আর সেই আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।
এদিকে, সভায় চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ খাত সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে দূষণ বন্ধ করার দাবি জানান। এ জন্য সেখানে বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপনের দাবিও জানান। তারা বলেন, সাভারে দুষণের দায় মালিকপক্ষকে দেয়া যাবে না। সেই সঙ্গে তাদের দেয়া ৯ দফা দাবিও স্মরণ করিয়ে দেন। অন্যথায় আগামী ২৮ এপ্রিলের পর কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এমই





