বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা হরতাল ও অবরোধে চরম সংকটে পড়েছে মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। কমে গেছে মাছের আমদানি এবং যা আছে তাও অবিক্রিত থাকছে। এতে করে মৎস্য আড়ৎ ব্যাবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছেন।
নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন রংপুর মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির দাবি, আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ টাকার মাছের কেনাবেচা হতো। এখন ২৫ লাখ টাকার কমে এসেছে। এতে করে দেড় শতাধিক শ্রমিকের দিন কাটছে কর্মহীনভাবে।
মৎস্য আড়ৎ ঘুরে দেখা গেছে, ৩৭ জন আড়ৎদারের (ব্যবসায়ীর) মধ্যে মাত্র ৬ থেকে ৭ জন আড়ৎদার স্বল্প পরিমাণ মাছ নিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষায় বসে আছেন।
আল্লাহর দান মৎস্য আড়তের মালিক আজাদ হোসেন বলেন, অবরোধের কারণে এখন মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ মাছের কেনা বেচা হচ্ছে। অবরোধে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে দূর-দূরান্ত থেকে মাছ আমদানি হচ্ছে না। যা আসছে তা জেলার আশেপাশের এলাকা থেকে।
এ সময় পাইকারের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এতে করে অনেক আড়ৎদার তাদের বকেয়া টাকা তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
সোয়েব মৎস্য আড়তের মালিক মুরাদ রহমান মানিক বলেন, আগে তিনি প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার মাছ বিক্রি করলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ হাজার টাকায়। লিলি মৎস্য আড়তের মালিক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, তার আড়তে ৭ থেকে ৮ জন কর্মচারী কাজ করছেন। কিন্তু অবরোধে তেমন মাছের কেনা-বেচা না হলেও কর্মচারীদের বসে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে।
এছাড়া একাধিক আড়ৎদার জানান, অবরোধের আগে চট্টগ্রাম, বরিশাল, পটুয়াখালী বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৪০টির মতো ট্রাকে করে মাছ আসতো। এখন ঝুঁকি নিয়ে ছোট-বড় মিলে ট্রাক আসে ৫ থেকে ৭টি। তবে বড় ট্রাক (৫ টন) ২ থেকে ৩টির বেশি আসে না। বড় ট্রাকে মাছ আসে ১০ থেকে ১২ টন এবং ছোট ট্রাকে মাছ আসে প্রায় ১৬ মন।
মৎস্য আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাছের কেনা-বেচা কমে যাওয়ায় ট্রাক থেকে মাছ লোড এবং আনলোড করার দায়িত্ব থাকা প্রায় শতাধিক শ্রমিক, মাছ বহনকারী অর্ধ শতাধিক ভ্যান চালক এবং মাছ আড়তের ওপর নির্ভরশীল বেশ কিছু হোটেল রেস্টুরেন্ট শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
রংপুর মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আযম মুকুল বলেন, পরিবহণ সংকটে বর্তমানে মাছ আমদানি কম। আবার পরিবহণ ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পাইকারের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছ আড়ত ব্যবসায়ীরা। এভাবে অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক ব্যবসায়ীকে পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে।
সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নিয়োজিত ইজারাদার হাদিবুজ্জামান শাহীন বলেন, মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় টোল আদায়ও হ্রাস পেয়েছে। ৩৭ জন আড়ৎদারের মধ্যে মাত্র ১৬ জনের কাছ থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে। অনেক খাতে টাকা নেয়ার কথা থাকলে সব খাতে টাকা নেয়া সম্ভব হয় না। অবরোধের আগে প্রতিদিন তার টোল আদায় হতো কখনো ১২ হাজার টাকার উপরে। এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কেএইচ





