টাকা থাকলে নগরবাসীর সেবার মান বাড়াতে ঢাকা সিটিকে ৪ ভাগ করতেন। ২০১১ সালে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঐতিহাসিক বক্তেব্যের মধ্যদিয়ে ঢাকা সিটিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করা হয়।
কিন্তু গত আড়াই বছরে নগরবাসীর সেবার মান বাড়েনি,তবে বেড়েছে নগরবাসী এবং ঢাকার দুই সিটির স্টাফদের অমানবিক হয়রানী ও ভোগান্তি। সেবারমান লাটে উঠেছে এবং এই সংস্থার ব্যায় বেড়েছে কয়েক গুন। ঢাকা উত্তর সিটির স্টাফরা নিয়মিত বেতন পেলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটির স্টাফদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী অর্থ বছরের বাজেট তৈরির বিষয়টিও অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
শুধু তাই নয়, ঢাকা দক্ষিনের প্রশাসক চলতি অর্থ বছরের প্রথম দিকে সরকারের কাছে এই সংস্থার স্বভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিক সেবার মান বজায় রাখার স্বার্থে ১০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার কোনো টাকা দেননি বলে জানা যায়।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপেরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রতিমাসে বেতন পরিশোধ করতে হয় ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বেতন ভাতা দেয়ার মতো টাকা ডিএসসিসির ফান্ডে নেই বলে জানান ওই সংস্থার প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দফতর।
ওই দফতরের সূত্রমতে জানা যায়, গত মে মাসের বেতনের শিট এখনো তৈরি করা হয়নি। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী জুলাই মাসে ঈদ উল ফিতরের বোনাস এবং বকেয়া বেতন ভাতার পরিমান দাঁড়াবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বছরে বেতন ভাতার পরিমান প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। আর রাজস্ব আদায়ের টার্গেট রয়েছে সব কিছু মিলে মাত্র ২০০ কোটি টাকা।
সূত্র মতে, সেবামূলক ওই সংস্থার পরিবহনের গত ৪ মাসের জ্বালানীর বিল বকেয়া জমেছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। প্রতি মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকার জ্বালানী বিল জমা হচ্ছে। এই বিল পরিশোধ না করলে আগামীতে জ্বালানী সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ময়লা টানার গাড়িসহ সব গাড়ি চলা চল বন্ধ হয়ে যাবে।
এছাড়া আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ঠিকাদারদের বকেয়া বিল জমা হবে ৩০০ শত কোটি টাকার বেশি। গত মাসে ১৬১ কোটি টাকার বকেয়া বিলে মধ্যে মাত্র ৫৮ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করেছে ডিএসসিসি।
সূত্র মতে , ডিএসসিসির রাজস্ব আদায় বিগত বছরের তুলনায় বাড়েনি। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের পরিমান উল্টো কমেছে। গত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের টার্গেট ছিল ২৬৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরেহোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের টার্গেট রয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। তবে গত ১১ মাসে আদায় হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এরমধ্যে গত মে মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনছার আলী টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আদালতে মামলার কারণে তাদের ৪টি মার্কেটের দোকান বরাদ্দ এবং রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। বড় বড় হোল্ডিংয়ের মালিকদের কাছে ট্যাক্স বকেয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি। এছাড়া ঢাকা সিটি বিভিক্তির সময় ব্যয়ের ভাগ বেশি পড়েছে দক্ষিণে। নির্বাচিত কাউন্সিলররা না থাকায় সেবার মান কিছুটা কমছে।
প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বকেয়ে বিল পরিশোধের জন্য প্রতিদিন পাওনাদারদের পক্ষ থেকে নানা হুমকিসহ প্রচণ্ড চাপ আসছে। সেই সঙ্গে নানা অপবাদও তাকে শুনতে হচ্ছে। ফান্ডে টাকা না থাকলে কিভাবে বিলের চেক দেবেন। তিনি বলেন, সেবামূলক এই সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে রাখার স্বার্থে স্টাফদের বেতন ভাতা এবং গাড়ির জ্বালানীর টাকা নিয়মিত পরিশোধ করা প্রয়োজন। কিন্তু এই বিলগুলোও সময় মতো প্ররিশোধ করা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, রাজস্ব আদায় এবং হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্যসহ যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা। রাজস্ব আদায়ের পরিমান ও গতি কমার বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারই ভাল বলতে পারবেন।
প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজস্ব বিভাগের কার্যক্রম মনিটর করা। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিষয়ে তার ভুমিকা প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যেক রেভিনিউ সুপারভাইজার এবং উপ কর কমকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত বড় বড় ট্যাক্স বকেয়ার মালিকদের বাসা বাড়ি গিয়ে রাজস্ব আদায়ের। তিনি বলেন, এই বিষয়টি মনিটরিং করার জন্য একজন উপ প্রধান রাজস্ব কমকর্তা এবং একজন রাজস্ব কর্মকর্তা রয়েছেন।
উপ প্রধান রাজস্ব কমকর্তা ইউসুফ আলী সরদার বলেন, চলিত জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে তারা রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরন করতে পারবেন। তারা ওই লক্ষেই কাজ করছেন। হতাশ হবার কিছুই নেই। তিনি বলেন, হিসাব শাখার কর্মকর্তারা অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। স্টাফদের বেতন ভাতা সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।
গত বছর জুলাই মাসে এই সংস্থার বাজেট অনুষ্ঠানে এলজিআরডি সচিব ( বর্তমানে অব.) আবু আলম মো. শহীদ খান কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, আপনাদের আয়ের চেয়ে বেতন ভাতা অনেক বেশি। পরনির্ভশীল বাজেট, এধরনের বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেছিলেন, ১ হাজার সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার বাজেটের ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকাই সরকার ও বৈদেশিক সাহায্য ও দান অনুদানের উপর নির্ভরশীল। আপনাদের নিজস্ব বিভিন্ন উৎস থেকে আয়ের পরিমান মাত্র ৫৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছেন।
[b]ঢাকা,একে ২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই [/b]
জাতীয়
দক্ষিণ সিটির স্টাফদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
টাকা থাকলে নগরবাসীর সেবার মান বাড়াতে ঢাকা সিটিকে ৪ ভাগ করতেন। ২০১১ সালে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঐতিহাসিক বক্তেব্যের মধ্যদিয়ে ঢাকা সিটিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করা হয়। কিন্তু গত আড়াই বছরে নগরবাসীর সেবার মান বাড়েনি,তবে বেড়েছে নগরবাসী





